Quantum Method কি?
Table of Contents
ToggleQuantum শব্দ দ্বারা পদার্থবিজ্ঞানে শক্তির ক্ষুদ্রতম একক বোঝায়। এখানে তবে এটি প্রতীকী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে অর্থাৎ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবর্তনের মাধ্যমে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। Method মানে হলো পদ্ধতি বা কৌশল।
সুতরাং, Quantum Method শব্দের আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায়:
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তনের কৌশল, যা ধীরে ধীরে জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে
বলা হয়ে থাকে কোয়ান্টাম প্রত্যেকের ধর্মবিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করে। সুখী মানুষের সবটুকু প্রয়োজন পূরণের প্রক্রিয়াই রয়েছে কোয়ান্টামে। তাই কোয়ান্টামই হচ্ছে নতুন সহস্রাব্দে আধুনিক মানুষের জীবন যাপনের বিজ্ঞান।
কোয়ান্টামের মুল হল পঞ্চসূত্র অর্থাৎ প্রশান্তি, সুস্বাস্থ্য, প্রাচুর্য, সুখী পরিবার ও ধ্যান
এই পঞ্চসূত্র দিয়ে বোঝানো হয় যদি কেউ ধ্যানকে নিয়মিত অভ্যাস করে, তবে সে শান্ত থাকবে, সুস্থ থাকবে, জীবনে প্রাচুর্য পাবে, পরিবারে সুখ বাড়বে।
ধ্যান এর প্রথম ধাপ হলো শিথিলায়ন (Relaxation)। এই ধাপে ধ্যানকারী নিজের মন ও শরীরকে সম্পূর্ণ শান্ত করে, যাতে মনোসংযোগ স্থির হয় এবং ধ্যানাবস্থা সৃষ্টি হয়। শিথিলায়নের মাধ্যমে ব্যক্তি অশান্তি, দুশ্চিন্তা ও চাপ থেকে মুক্তি পায় এবং মন শান্তি অনুভব করতে থাকে।
ধ্যানের শেষ ধাপ হলো মহা চৈতন্য (Super Consciousness)। এই পর্যায়ে ধ্যানকারী সাধারণ বস্ত্তগত সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং গভীর শান্তি ও প্রশান্তির মধ্যে নিমগ্ন হয়। এখানে মন, শরীর ও চেতনা একত্র হয়ে এমন একটি উচ্চতর অবস্থায় চলে যায় যেখানে ব্যক্তি নিজের ভিতরের শক্তি, জ্ঞান ও সৃষ্টিশীলতা পুরোপুরি অনুভব করতে পারে। সহজভাবে বলতে গেলে, ধ্যানের এই চূড়ান্ত পর্যায়ে মানুষ অন্তরের শান্তি ও আত্মসচেতনতার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়।
অন্যান্য শিক্ষাগত ডিগ্রীর মতো, এখানে ধ্যান সাধনায় যারা সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়, তাদেরকে “কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই গ্রাজুয়েটরা ধ্যানের মাধ্যমে কমান্ড সেন্টারে প্রবেশ করে এবং নিজের ভিতরের শক্তি, ইতিবাচকতা ও সৃজনশীলতাকে সক্রিয় করতে শেখে। ধ্যানের মাধ্যমে তারা নিজের মনকে একটি কম্পিউটারের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, এবং তারা কারামতে আউলিয়া দের মত কাজ করতে পারে।
তারা বলেন, মনকে প্রশান্ত করার মতো নামাজ যাতে আপনি পড়তে পারেন সেজন্যই মেডিটেশন দরকার। কেননা নামাজের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হুযুরিল ক্বালব, একাগ্রচিত্ততা
এর দুটি ঘটনা
এই বইয়ের অধ্যায়-২৫-এ “কমান্ড সেন্টার : কল্যাণ প্রক্রিয়া” অংশে, “কোথায় কী করছে!” উপ-শিরোনামের অধীনে ২৬৭ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করা হয়েছে
এক বাবার ছেলে কলকাতায় গিয়েছে কিন্তু দুদিন ধরে তার কোনো খোঁজ নেই। পরিবারের বাবা, ছেলে এবং মেয়ে তিনজনই কোয়ান্টাম গ্র্যাজুয়েট। বাবা মাগরিবের নামাজ পড়ার পর মেডিটেশনের মাধ্যমে কমান্ড সেন্টারে গিয়ে ছেলের বর্তমান অবস্থা দেখার চেষ্টা করেন। সঙ্গে সঙ্গে তার মনের পর্দায় কলকাতার একটি সিনেমা হলের গেট ভেসে ওঠে এবং তিনি দেখতে পান যে তার ছেলে সিনেমা হলে ঢুকছে।
এরপর বাবা ছেলেকে তার উদ্বেগের কথা জানান এবং দ্রুত ফোন করতে বলেন।
এই ঘটনাটি বইটিতে Command Center-এর কার্যকারিতা এবং মানসিক শক্তির প্রয়োগের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
মহাজাতক বইয়ের অধ্যায়-২-এ “চাবিকাঠি : বিশ্বাস” শিরোনামে ২৩ থেকে ২৫ পৃষ্ঠায় বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে
সময়টি ছিল ১৯৭৩ সালের ২৬শে মার্চ। প্রফেসর এম. ইউ. আহমাদ ১০৫ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছিল।
ক্লিনিক্যালি ডেড বা চিকিৎসাগত মৃত্যু:
এক পর্যায়ে প্রফেসর আহমাদের হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর হৃদস্পন্দন থেমে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং শরীর বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়। ডাক্তাররা তাঁকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তিনি ক্লিনিক্যালি ডেড অবস্থায় চলে যান। যদিও তাঁর শারীরিক সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তিনি তাঁর চারপাশের সবকিছু শুনতে ও বুঝতে পারছিলেন। তিনি ডাক্তারদের কথাবার্তা, নার্সদের ছোটাছুটি এবং আত্মীয়-স্বজনদের কান্নাকাটি—সবই উপলব্ধি করছিলেন। তাঁর নিজের কাছে মনে হচ্ছিল তিনি যেন ধীরে ধীরে এক পরম শান্তির জগতে তলিয়ে যাচ্ছেন এবং এই অবস্থাকে তিনি মৃত্যুর প্রশান্তি হিসেবেই মেনে নিচ্ছিলেন।
এই সময় হঠাৎ তাঁর কানে আসে তাঁর মেয়ে মেরীর কান্নাভেজা কণ্ঠের আকুতি, “আব্বা তোমাকে বাঁচতেই হবে, বাঁচতেই হবে।” এই ডাক শুনে তাঁর গভীরে প্রশ্ন জাগে, “কেন বাঁচতে হবে?”
প্রথমে তিনি ভাবেন, পরিবারের জন্য তাঁর বেঁচে থাকার আর হয়তো প্রয়োজন নেই। কিন্তু পরক্ষণেই তাঁর চেতনায় ভেসে ওঠে তাঁর অগণিত অসহায় মানসিক রোগীর মুখ। তিনি ভাবেন, “দেশে নির্ভরযোগ্য মনোচিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। এই অসহায় মানুষগুলোর জন্য আমাকে বাঁচতে হবে।” একই সাথে তাঁর মনে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সাইকোলজিক্যাল ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্নের কথা, যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব মূলত তাঁরই ছিল।
জীবনের এই মহৎ উদ্দেশ্যগুলো তাঁর ভেতর বাঁচার এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। যে দেহ কিছুক্ষণ আগেও নিষ্ক্রিয় ছিল, সেই দেহে তিনি প্রবল ইচ্ছাশক্তি সঞ্চার করেন এবং ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলে ওঠেন, “আমাকে বাঁচতে হবে। ডাক্তার সাহেব আপনারা চেষ্টা করুন।”
তাঁর এই আকস্মিক প্রতিক্রিয়ায় ডাক্তাররা চমকে যান এবং দ্বিগুণ উৎসাহে আবার তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা শুরু করেন। অবিশ্বাস্যভাবে, তাঁর নিথর দেহে প্রাণের সঞ্চার হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে তাঁর হৃৎপিণ্ড, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং রক্ত সঞ্চালন আবার চালু হয়ে যায়। প্রায় ছয় ঘণ্টা ক্লিনিক্যালি ডেড থাকার পর তিনি পুনরায় জীবন ফিরে পান।
এদের লক্ষ
- অন্তর্গুরুকে পাওয়া
অন্তর্গুরু হলেন আপনার ভেতরের প্রজ্ঞা, বা আপনার “অন্তরের পথ প্রদর্শক”। তাঁকে গুরু, পীর, মুর্শিদ বা গাইড যেকোনো নামেই ডাকা হোক না কেন, তিনি আসলে আপনারই গভীর চেতনার অংশ, যিনি আপনাকে সঠিক পথ দেখাতে পারেন।
অন্তর্গুরুকে পাওয়ার স্থান হলো মেডিটেশনের গভীরে অবস্থিত “কমান্ড সেন্টার”। গভীর এবং একাগ্র মেডিটেশনের মাধ্যমেই সাধক তার অন্তর্গুরুর সাথে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব। অন্তর্গুরুর সান্নিধ্য লাভ করা মেডিটেশনের একটি ধ্যানের উঁচু পর্যায়। (বইটির অধ্যায়-২৬)
- সাদাকায়ন মাটির ব্যাংক
যে নিয়তে এখানে টাকা রাখবেন, সে নিয়ত পূরণ হবে। প্রথমবারে পূরণ না হ’লে বুঝতে হবে মাটির ব্যাংক এখনো সন্তুষ্ট হয়নি। এভাবে টাকা ফেলতেই থাকবেন। কোন মানত করলে মাটির ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হবে। পূরণ না হলে অর্থের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এখানে খাঁটি সোনার চেইন বা হীরার আংটি দিতে পারেন। ইমিটেশন দিলে মানত পূরণ হবে না (প্রশ্নোত্তর)। এর জন্য একটা গল্প ফাঁদা হয়েছে। যেমন, ‘মধ্যরাতে উঠে মাটির ব্যাংকে পাঁচশত টাকা রাখার সাথে সাথে মুমূর্ষু ছেলে সুস্থ হয়ে গেল’ (দুঃসময়ের বন্ধু..)
- নিজের উপর আত্নবিশবাস
তুমি চাইলেই সব করতে পার, মানুষের মনের শক্তি অসীম এবং এই শক্তিকে কাজে লাগানোর প্রথম শর্ত হলো নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। ‘আমি পারব’ এই গভীর বিশ্বাসই সমস্ত সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
রাসুলুল্লাহ (স) হেরা গুহায় ধ্যান করেছেন কি?
আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদেরকে শেখানো হয়েছে রাসুলুল্লাহ ধ্যান করতেন কিন্তু আসলে এটা মিথাচার,
(মেশকাত ৫৮৪১) আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর প্রতি সর্বপ্রথম ওয়াহীর সূচনা হয় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি (সা) যে স্বপ্নই দেখতেন তা প্রভাতের আলোর মতোই ফলত। এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা পছন্দনীয় হতে লাগল। তাই তিনি (সা.) একাধারে কয়েকদিন পর্যন্ত নিজের পরিবার পরিজনদের কাছ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে হেরা পর্বতের গুহায় নির্জন পরিবেশে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকতে লাগলেন। আর এ উদ্দেশে তিনি (সা.) কিছু খাবার সাথে নিয়ে যেতেন। তা শেষ হয় গেলে তিনি (সা.) খাদীজাহ (রাঃ) -এর কাছে ফিরে এসে আবার ঐ পরিমাণ কয়েক দিনের জন্য কিছু খাবার সাথে নিয়ে যেতেন। অবশেষে হেরা গুহায় থাকাকালে তাঁর কাছে সত্য (ওয়াহী) আসলো।
হাদিসে التَّعَبُّدُ শব্দ ব্যাবহার করেছেন যার শাব্দিক অর্থ ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। অপরদিকে ধ্যান” শব্দের আরবি হলো تأمل (তামাল্লো) কুরআন বা হাদিসে এমন শব্দ ব্যাবহার আছে কি না জানা নেই।
কোন সাহাবা, বা রাসুল অহি আসার পরে হেরা গুহায় গিয়েছেন কি না ইবাদতের জন্য এর কোন প্রমান নেই। তারা মুসলমানদের বোকা বানানোর জন্য تدبر (তাদব্বুর), জিকির, তাফাক্কুর শব্দের ভুল অর্থ করে, ধ্যান
তারা বলে, মনকে প্রশান্ত করার মতো নামাজ যাতে আপনি পড়তে পারেন সেজন্যই মেডিটেশন দরকার। কেননা নামাজের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হুযুরিল ক্বালব, একাগ্রচিত্ততা। এটা কিভাবে অর্জিত হয়, তা এখানে এলে শেখা যায়।
অথচ আল্লাহ বলেন
اِنَّنِیۡۤ اَنَا اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدۡنِیۡ ۙ وَ اَقِمِ الصَّلٰوۃَ لِذِكۡرِیۡ
قَدۡ اَفۡلَحَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ
الَّذِیۡنَ هُمۡ فِیۡ صَلَاتِهِمۡ خٰشِعُوۡنَ
বুখারি ৫৩১. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সঙ্গে গোপনে কথা বলে।
সহিহ মুসলিম: ৩৯৫ বলা হয়েছে সুরা ফাতিহার জবাবের কথা
قَالَ الْعَبْدُ ( الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) . قَالَ اللَّهُ تَعَالَى حَمِدَنِي عَبْدِي وَإِذَا قَالَ ( الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) . قَالَ اللَّهُ تَعَالَى أَثْنَى عَلَىَّ عَبْدِي وَإِذَا قَالَ ( مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) . قَالَ مَجَّدَنِي عَبْدِي – وَقَالَ مَرَّةً فَوَّضَ إِلَىَّ عَبْدِي – فَإِذَا قَالَ ( إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) . قَالَ هَذَا بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي
অন্তর্গুরুকে পাওয়া
ইসলামের সকল ইবাদতের লক্ষ্য হ’ল আল্লাহর দাসত্ব ও রাসূল (ছাঃ)-এর আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা ও পরকালে মুক্তি লাভ করা। পক্ষান্তরে কোয়ান্টামের ধ্যান সাধনার লক্ষ্য হ’ল অন্তর্গুরুকে পাওয়া। যা আল্লাহ থেকে সরিয়ে মানুষকে তার প্রবৃত্তির দাসত্বে আবদ্ধ করে।
اَرَءَیۡتَ مَنِ اتَّخَذَ اِلٰـهَهٗ هَوٰىهُ ؕ اَفَاَنۡتَ تَكُوۡنُ عَلَیۡهِ وَكِیۡلًا
তুমি কি তাকে দেখনি, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে? তবুও কি তুমি তার যিম্মাদার হবে?
মুলত ঐ অন্তর্গুরুটা হ’ল শয়তান। সে সর্বদা তাকে রঙিন স্বপ্নের মাধ্যমে তার দিকে প্রলুব্ধ করে।
কমান্ড সেন্টারে প্রবেশ বা কারামতে আউলিয়া বা মুজিজা
তারা মুলত ভন্ড পির যারা মুরাকাবা ও কারামতের নামে ভন্ডামি করে, তাদের থেকে ধার নিয়েছে। একটা বিষয় স্পস্টভাবে জানা ও বুঝা উচিৎ কারামত কোন ব্যাক্তির নিজস্ব শক্তি বা স্থায়ী শক্তি নয়, যেমন তারা ওমর (রা) এর উদাহরন দেয়, মিশকাত হা/ ৫৯৫৪
আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) স্বীয় খেলাফতকালে (ইরানের দক্ষিণ হামদান এলাকার নাহাওয়ান্দে) ‘সারিয়াহ’ নামক জনৈক সেনাপতির অধীনে একদল সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে তারা পরাজয়ের সম্মুখীন হয়। তখন ওমর (রাঃ) মদীনার মসজিদে নববীতে খুৎবা দিচ্ছিলেন (যেখানে ওছমান ও আলী (রাঃ) সহ বহু ছাহাবী তাবেঈ ও মুছল্লী উপস্থিত ছিলেন)। এ সময় ওমর (রাঃ) চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন, হে সারিয়া! পাহাড়ে আশ্রয় নাও। এই গায়েবী আওয়ায যুদ্ধ ক্ষেত্রে সবাই শুনতে পায়। তখন তারা পিছনে হটে পাহাড়ে আশ্রয় নেন। অতঃপর পুনরায় যুদ্ধ করে জিতে যান’
আর এই ওমর (রা) শহিদ হন মসজিদে নববিতে ! আবু লুলু
আল্লাহর উপর তাওয়াককুল
মেডিটেশন পদ্ধতি নিজের উপরে তাওয়াক্কুল করতে বলে এবং শিখানো হয় যে, ‘তুমি চাইলেই সব করতে পার’। এরা হাতে মূল্যবান ‘কোয়ান্টাম বালা’ পরে ও তার উপরে ভরসা করে।
ইসলাম মানুষকে মহাশক্তিধর আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে শিখায় এবং আল্লাহ যা চান তাই হয়। এর মাধ্যমে মুমিন নিশ্চিন্ত জীবন লাভ করে ও পূর্ণ আত্মশক্তি ফিরে পায়।
আল্লাহর এক নাম ওয়াকিল, থেকে তাওয়াককুল, আল্লাহ বলেন
وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ‘তোমরা যদি মুমিন হয়ে থাক, তাহলে একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা কর’’। (সূরা মায়েদাঃ ২৩)
وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ
‘‘যে কেউ আল্লাহ্র সাথে শরীক করল; সে যেন আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল, অতঃপর পাখী তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে গেল অথবা বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে দূরবর্তী কোনো স্থানে নিক্ষেপ করল’’। (সূরা হজ্জঃ ৩১)
সাদাকা হবে আল্লাহর জন্য
সকলের ধর্মবিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করা কুফরি
ডাঃ হার্বার্ট বেনসন:
তিনি হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের একজন গবেষক। দীর্ঘ গবেষণার পর তিনি ১৯৭৫ সালে ‘রিলাক্সেশন রেসপন্স’ (The Relaxation Response) নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। সেই গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেন যে, একাগ্র বিশ্বাস সহকারে মেডিটেশন বা প্রার্থনা করলে অনিদ্রা, সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা এবং ব্যথা-বেদনা জনিত রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।
তিনি বলেন যে, উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠার কারণে সৃষ্ট রোগে প্রচলিত চিকিৎসা খুব একটা কার্যকর হয় না। তার মতে, ৬০-৯০% নিরাময় রোগীর বিশ্বাসের কারণে হয়ে থাকে। “আমি সুস্থ হবো” – এই বিশ্বাস রোগীর দেহের নিউরো-ইমিউনোলজিক্যাল সিস্টেমকে নতুনভাবে সক্রিয় করে তোলে এবং রোগের কোষের নেতিবাচক স্মৃতি বদলে দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশ্বাসকে ‘প্লাসিবো ইফেক্ট’ (Placebo Effect) বলা হয়।
দিনে ইলাহি
১. বহুজাতিক জ্ঞান চর্চা
দ্বীনে এলাহী: প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুঘল সম্রাট জালালউদ্দীন আকবর তার রাজদরবারে একটি কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন যেখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, পার্সি সহ বিভিন্ন ধর্মের পণ্ডিতদের আমন্ত্রণ জানানো হতো। তাদের নিজ নিজ ধর্ম ও দর্শন সম্পর্কে আলোচনা শোনা হতো এবং সেই আলোচনা থেকে বিভিন্ন ধর্মের সারসংক্ষেপ গ্রহণ করা হতো। প্রবন্ধকারের মতে, আকবরের এই জ্ঞান চর্চার মূল উদ্দেশ্য ছিল সকল ধর্ম থেকে কিছু কিছু উপাদান নিয়ে একটি মিশ্র মতবাদ তৈরি করা, যা পরবর্তীতে “দ্বীনে এলাহী” নামে পরিচিত হয়।
- বইয়ের রেফারেন্স: এই তথ্যের সমর্থনে প্রবন্ধকার “উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাজী” গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ৫৩ নং পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
কোয়ান্টাম মেথড: একইভাবে, প্রবন্ধকার দাবি করেন যে কোয়ান্টাম মেথডও একটি মিশ্র জীবন-দর্শন তৈরি করেছে। এটি ইসলাম, হিন্দুধর্ম, বৌদ্ধধর্ম এবং অন্যান্য ধর্ম ও দর্শনের নির্যাস বা সারকথা গ্রহণ করে একটি নতুন “জীবন যাপনের বিজ্ঞান” বা “Science of Living” হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করেছে। লেখকের মতে, দুটি ক্ষেত্রেই বিশুদ্ধ ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে একটি মিশ্র পরিচয় তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
২. যুক্তি নির্ভরতা (যুক্তির উপর নির্ভরশীলতা)
দ্বীনে এলাহী: প্রবন্ধ অনুসারে, দ্বীনে এলাহীর ভিত্তি কোনো ঐশী গ্রন্থ বা আসমানী কিতাবের উপর ছিল না। এর মূল ভিত্তি ছিল মানব মস্তিষ্কপ্রসূত যুক্তি বা আকল (Aql)। সম্রাট আকবর এবং তার অনুসারীরা ধর্মীয় বিধানগুলোকে নিজেদের যুক্তির মানদণ্ডে বিচার করতেন। যদি কোনো ঐশী বিধান তাদের যুক্তিতে খাপ না খেত, তবে সেটিকে তারা “অন্ধ অনুসরণ” বলে আখ্যায়িত করে বর্জন করতেন।
- বইয়ের রেফারেন্স: এই বক্তব্যের সপক্ষে “উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাজী” বইয়ের ১ম খণ্ডের ৪২ নং পৃষ্ঠার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কোয়ান্টাম মেথড: অন্যদিকে, কোয়ান্টাম মেথডের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক বিজ্ঞান, বিশেষ করে “কোয়ান্টাম মেকানিক্স” নামক পদার্থবিজ্ঞানের একটি শাখার ওপর। প্রবন্ধকারের মতে, তারাও ঐশী বিধান বা ধর্মীয় অনুশাসনকে সরাসরি গ্রহণ না করে বিজ্ঞানের যুক্তিতে বিচার করে। তারা ঐশী বিধানগুলোকে “পক্ষপাতদুষ্ট মত” বা “অবিদ্যা” (আধ্যাত্মিক অজ্ঞতা) বলে আখ্যা দিয়েছে। লেখকের ভাষায়, এখানেও ধর্মীয় বিশ্বাসের চেয়ে মানবসৃষ্ট যুক্তি ও বিজ্ঞানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- বইয়ের রেফারেন্স: এই বিষয়ে প্রমাণ হিসেবে “হাজারো প্রশ্নের জবাব” গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ১৫ ও ৪২৫ নং পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
৩. নববিধান (নতুন বিধান)
দ্বীনে এলাহী: সম্রাট আকবরের সময়ে একটি ধারণা প্রচার করা হয়েছিল যে, ইসলামের বয়স এক হাজার বছর পূর্ণ হয়েছে এবং হিজরি প্রথম সহস্রাব্দ শেষে এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে। এই অপপ্রচারের উপর ভিত্তি করে আকবর অনুভব করেন যে, পুরনো ধর্মীয় বিধান এখন আর যুগোপযোগী নয়, তাই একটি “নতুন ধর্ম, নতুন আইন ও নতুন মেথড” বা বিধান প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
- বইয়ের রেফারেন্স: এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের জন্য প্রবন্ধকার “তারিখে দাওয়াত ওয়া আযীমত” গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডের ১১১ নং পৃষ্ঠার উল্লেখ করেছেন।
কোয়ান্টাম মেথড: প্রবন্ধকার এই বিষয়টির সাথে কোয়ান্টাম মেথডের তুলনা করে বলেন যে, তারাও একটি “নতুন জীবনদৃষ্টি” এবং “নতুন মেথড” নিয়ে এসেছে। তাদের প্রচারণার মূলভাব হলো—কুরআন-হাদিসের পুরনো বিধিবিধান বর্তমান যুগে মানুষের মুক্তি ও সাফল্যের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই যুগের চাহিদা মেটাতে তাদের উদ্ভাবিত “দি সায়েন্স অব লিভিং” নামক মিশ্র বিজ্ঞান বা জীবন-দর্শন গ্রহণ করা প্রয়োজন। লেখকের মতে, দুটি ক্ষেত্রেই পুরনো ঐশী বিধানকে অপর্যাপ্ত মনে করে একটি নতুন বিধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
- বইয়ের রেফারেন্স: এই তথ্যের জন্য “হাজারো প্রশ্নের জবাব” বইয়ের ১ম খণ্ডের ৫৬ ও ৩০০ নং পৃষ্ঠাকে রেফারেন্স হিসেবে দেখানো হয়েছে।
৪. সহস্রাব্দের ডাক (Call of the Millennium)
দ্বীনে এলাহী: দ্বীনে এলাহীকে বিশেষভাবে দ্বিতীয় সহস্রাব্দের (ফারসিতে আলফে সানি) নতুন বিধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এর গুরুত্ব বোঝানোর জন্য রাষ্ট্রীয় মুদ্রার উপর সহস্রাব্দের তারিখ খোদাই করা হয় এবং “আলফী” নামে একটি নতুন ইতিহাস গ্রন্থও রচনা করা হয়েছিল, যা ছিল মূলত সহস্রাব্দের ইতিহাস।
- বইয়ের রেফারেন্স: এই তথ্যের উৎসের জন্য আবারও “তারিখে দাওয়াত ওয়া আযীমত” গ্রন্থের ৪র্থ খণ্ডের ১১১ নং পৃষ্ঠার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
কোয়ান্টাম মেথড: একইভাবে, কোয়ান্টাম মেথডকেও “নতুন সহস্রাব্দের জীবন যাপনের বিজ্ঞান” বা “The science of living for the new millennium” হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। প্রবন্ধকার এর বিরোধিতা করে বলেন যে, ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট শতাব্দী বা সহস্রাব্দের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
- বইয়ের রেফারেন্স: কোয়ান্টামের এই প্রচারণার প্রমাণ হিসেবে “কোয়ান্টাম উচ্ছ্বাস” নামক প্রকাশনার ১৪৩ নং পৃষ্ঠার উল্লেখ করা হয়েছে।
৬. ঈমান ছাড়া সাধনা (বিশ্বাস ব্যতীত আধ্যাত্মিক অনুশীলন)
দ্বীনে এলাহী: প্রবন্ধ অনুসারে, দ্বীনে এলাহীর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল যে, সেখানে সঠিক ঈমান বা আকিদা (ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস) estabelecido না করেও বিভিন্ন ধরনের আধ্যাত্মিক সাধনা বা রিয়াযাত (অনুশীলন) করা হতো। অর্থাৎ, স্রষ্টার প্রতি বিশুদ্ধ বিশ্বাস স্থাপনের চেয়ে বাহ্যিক অনুশীলন বা সাধনার ওপর বেশি জোর দেওয়া হতো।
কোয়ান্টাম মেথড: একইভাবে, প্রবন্ধকার দাবি করেন যে, কোয়ান্টাম মেথডেও অংশগ্রহণকারীর ঈমান বা কুফর (বিশ্বাস বা অবিশ্বাস) কী, সেই ভেদাভেদকে গুরুত্ব না দিয়ে “মৌন সাধনা”-র মতো বিভিন্ন অনুশীলন করানো হয়। লেখকের মতে, এখানে মূল ফোকাস থাকে পদ্ধতির উপর, অংশগ্রহণকারীর ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর নয়। প্রবন্ধকার এই বিষয়টিকে ইসলামের মূলনীতির পরিপন্থী বলে মনে করেন, কারণ ইসলামে যেকোনো আমল বা সাধনা কবুল হওয়ার জন্য সর্বপ্রথম শর্তই হলো বিশুদ্ধ ঈমান।
- বইয়ের রেফারেন্স: কোয়ান্টাম মেথডের এই অনুশীলনের জন্য “হাজারো প্রশ্নের জবাব – মহাজাতক” গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ১৯৯ নং পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
৭. সূর্য পূজা (সূর্যের উপাসনা)
দ্বীনে এলাহী: প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে, দ্বীনে এলাহীতে সরাসরি সূর্যের পূজা করা হতো। এমনকি সম্রাট আকবর নিজেও সংস্কৃতে সূর্যের এক হাজারটি নাম জপ বা উচ্চারণ করতেন। এটি ছিল দ্বীনে এলাহীর অন্যতম প্রধান একটি আনুষ্ঠানিকতা, যা হিন্দুধর্মের সৌর-উপাসনার দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- বইয়ের রেফারেন্স: এই তথ্যের সমর্থনে “উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাজী” গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ২৭ নং পৃষ্ঠার উল্লেখ করা হয়েছে।
কোয়ান্টাম মেথড: এর সাথে তুলনা করে প্রবন্ধকার লিখেছেন, কোয়ান্টাম মেথডেও “সূর্য মেডিটেশন” নামে একটি বিশেষ ধরনের সাধনার প্রচলন রয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি কোয়ান্টামের “কোয়ান্টাধ্বনি” নামক একটি জপের পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন, যা তার মতে দরবেশ বা ঋষিদের মন্ত্র জপ করার মতোই একটি অনুশীলন। এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, দুটি ক্ষেত্রেই এমন কিছু অনুশীলন রয়েছে যা প্রচলিত ইসলামিক আচারের সাথে মেলে না এবং অন্য ধর্মের উপাসনা পদ্ধতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- বইয়ের রেফারেন্স: কোয়ান্টাম মেথডের এই তথ্যের জন্য “হাজারো প্রশ্নের জবাব – মহাজাতক” বইয়ের ১ম খণ্ডের ১৬৪ নং পৃষ্ঠার রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে।
৮. অগ্নি পূজা (আগুনের উপাসনা)
দ্বীনে এলাহী: অগ্নি উপাসকদের (যেমন, জরাথুস্ট্রিয়ান বা পার্সি) অনুকরণে সম্রাট আকবরের রাজমহলে সর্বদা আগুন জ্বালিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই আগুনকে অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হতো এবং সম্মান জানানো হতো, যা ছিল অগ্নি পূজার শামিল।
- বইয়ের রেফারেন্স: এই বিষয়ে প্রমাণ হিসেবে “উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাজী” গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ৪৩ নং পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি রয়েছে।
কোয়ান্টাম মেথড: প্রবন্ধকার দাবি করেছেন, কোয়ান্টামের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত বান্দরবানের লামায় অবস্থিত মেডিটেশন রিসোর্টে একটি বিশেষ ধরনের ধ্যান উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই উৎসবে একটি কুণ্ডলীতে আগুন জ্বালানো হয়, যাকে তারা “ক্যাম্প ফায়ারিং” (Camp Firing) বলে থাকে। লেখকের মতে, এটিও এক ধরনের অগ্নি-উপাসনার আধুনিক রূপ এবং তিনি আফসোস করে বলেছেন যে, মুসলমানরা সাফল্য বা রোগমুক্তির আশায় এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে।
- তথ্যের উৎস: এই তথ্যের জন্য কোনো বইয়ের রেফারেন্স না দিয়ে, ব্র্যাকেটে “(প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণকারীর বক্তব্য)” উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি কোনো অংশগ্রহণকারীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া তথ্য।
৯. বাইবেল প্রচার
দ্বীনে এলাহী: প্রবন্ধে বলা হয়েছে, সম্রাট আকবর শুধুমাত্র বিভিন্ন ধর্মের মতবাদই শুনতেন না, বরং তিনি বাইবেল এবং মহাভারতের মতো গ্রন্থগুলো স্থানীয় ভাষায় অনুবাদ করে সেগুলোর প্রচারের ব্যবস্থা করেছিলেন। এমনকি তিনি তার পুত্র শাহজাদা মুরাদকে খ্রিস্টান পাদ্রিদের কাছে পাঠিয়ে বাইবেল থেকে শিক্ষা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- বইয়ের রেফারেন্স: এই তথ্যের জন্য “উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাজী” গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ৪১ ও ৪৩ নং পৃষ্ঠার উল্লেখ করা হয়েছে।
কোয়ান্টাম মেথড: অনুরূপভাবে, কোয়ান্টাম মেথডও বেদ, বাইবেল এবং বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থ ধম্মপদের মতো বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থের অনুবাদ প্রচার করে থাকে। তারা তাদের অনুসারীদেরকে এই গ্রন্থগুলোর “মর্মবাণী” বা মূল শিক্ষা অনুধাবন করার জন্য আহ্বান জানায়। প্রবন্ধকারের মতে, এটিও সকল ধর্মকে সমন্বয় করার একটি কৌশল, যা দ্বীনে এলাহীর নীতির সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
- বইয়ের রেফারেন্স: কোয়ান্টাম মেথডের এই কার্যক্রমের রেফারেন্স হিসেবে “কো. কণিকা-৮” (সম্ভবত কোয়ান্টাম কণিকা নামক কোনো প্রকাশনা) এর উল্লেখ করা হয়েছে।
১০. পর্দা (নারীদের আব্রু)
দ্বীনে এলাহী: প্রবন্ধ অনুসারে, সম্রাট আকবর তার প্রবর্তিত দ্বীনে এলাহীতে নারীদের জন্য পর্দা বা আব্রুর বিধান বাতিল করে দিয়েছিলেন। এটিকে সেই সময়ে একটি আধুনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, প্রবন্ধকারের দৃষ্টিতে এটি ছিল ইসলামী শরীয়তের একটি ফরজ বিধানের সরাসরি লঙ্ঘন।
- বইয়ের রেফারেন্স: এই তথ্যের জন্য “উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাজী” গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ২৮ নং পৃষ্ঠার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
কোয়ান্টাম মেথড: প্রবন্ধকার এই বিষয়টির সাথে কোয়ান্টাম মেথডের তুলনা করে বলেন যে, তাদের বিভিন্ন কোর্স ও অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা পরিলক্ষিত হয়, যেখানে পর্দার কোনো ধারণা রাখা হয় না। তিনি বিশেষভাবে দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন:
১. নারীরা মেকআপ করে মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখছেন।
২. “গুরুজী” কর্তৃক টিনেজ বা তরুণী মেয়েদের মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ দেওয়ার মতো ঘটনা, যা ইসলামে পরপুরুষের জন্য সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ।
- বইয়ের রেফারেন্স: মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ দেওয়ার এই তথ্যের সমর্থনে “হা.প্র.জ.” (হাজারো প্রশ্নের জবাব) বইয়ের ১ম খণ্ডের ২২১ নং পৃষ্ঠার উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবন্ধকারের ইসলামী দৃষ্টিকোণ: লেখক জোর দিয়ে বলেন যে, পর্দা ইসলামের একটি ফরজ বিধান। তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-আহযাবের ৫৯ নং আয়াতের উদ্ধৃতি দেন, যেখানে মুমিন নারীদের চাদর দিয়ে নিজেদের শরীর ও চেহারা আবৃত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি “তাফসীরে মা’আরিফুল কুরআন” থেকে ব্যাখ্যা যোগ করে বলেন যে, সাহাবী ও তাবেয়ীদের আমল অনুযায়ী চেহারা ঢেকে রাখাও এই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। তাই লেখকের মতে, যে সাধনায় ইসলামের এই মৌলিক বিধান লঙ্ঘন করা হয়, তা সফল হতে পারে না।
১১. দাড়ি (পুরুষের দাড়ি রাখা)
দ্বীনে এলাহী: প্রবন্ধে বলা হয়েছে যে, সম্রাট আকবরের দ্বীনে এলাহীতে দাড়ি মুণ্ডন করা বা কেটে ফেলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হতো। আকবর নিজে এবং তার অনুসারী পণ্ডিতরা নিয়মিত দাড়ি মুণ্ডন করতেন এবং এর পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দাঁড় করাতেন।
- বইয়ের রেফারেন্স: এই তথ্যের সমর্থনে “উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাজী” গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ২৬ নং পৃষ্ঠার উল্লেখ করা হয়েছে।
কোয়ান্টাম মেথড: প্রবন্ধকার বলেন, কোয়ান্টামের “গুরুজী” নিজেও দাড়ি রাখেন না এবং এর পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিয়ে থাকেন। তিনি প্রমাণ হিসেবে কোয়ান্টামের একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব থেকে উদ্ধৃতি দেন, যেখানে বলা হয়েছে: দাড়ি রাখা নবীজীর (সাঃ) একটি সুন্নত, কিন্তু এটি ফরজ নয় বা ঈমানের অংশও নয়। তাই দাড়ি না রাখলে কাউকে ইসলামবিরোধী বলা যাবে না।
- বইয়ের রেফারেন্স: কোয়ান্টামের এই প্রশ্নোত্তরটি “হাজারো প্রশ্নের জবাব – মহাজাতক” এর ১ম খণ্ডের ৪২৩ নং পৃষ্ঠা থেকে নেওয়া হয়েছে।
প্রবন্ধকারের ইসলামী দৃষ্টিকোণ: লেখক কোয়ান্টামের এই যুক্তিকে “সম্পূর্ণ মনগড়া” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি সহীহ হাদিসের (বুখারী ও মুসলিম শরীফ) উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করেন যে, দাড়ি রাখা শুধু সুন্নত নয়, বরং এটি একটি ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক) বিধান। নবী করীম (সাঃ) মুশরিক ও অগ্নি-উপাসকদের বিরোধিতা করে দাড়ি লম্বা রাখা ও গোঁফ ছোট করার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। লেখকের মতে, এই নির্দেশ অমান্য করে দাড়ি মুণ্ডন করা একটি কবিরা গুনাহ (বড় পাপ)। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যারা নবীজীর (সাঃ) ভালোবাসার দাবি করে, তারা কি তাঁর নির্দেশ মানবে নাকি গুরুজীর অনুসরণ করবে?
১২. বাই’আত (আনুগত্যের শপথ)
দ্বীনে এলাহী: দ্বীনে এলাহীতে দীক্ষা গ্রহণের সময় সম্রাট আকবরের হাতে আনুগত্যের শপথ বা বাই’আত গ্রহণের একটি প্রথা চালু ছিল। এই বাই’আতের সময় দীক্ষা গ্রহণকারীকে চারটি বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করানো হতো, যা ছিল সম্রাট ও তার মতাদর্শের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের অঙ্গীকার।
- বইয়ের রেফারেন্স: এই বিষয়ে “উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাজী” গ্রন্থের ১ম খণ্ডের ৬৮ নং পৃষ্ঠার রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে।
কোয়ান্টাম মেথড: অনুরূপভাবে, কোয়ান্টাম মেথডের গুরুজিও সকল ধর্মের মানুষকে বাই’আত করান এবং তাদের দিয়ে একটি বিশেষ “প্রত্যয়ন পাঠ” করান। প্রবন্ধকারের মতে, এটি সকল ধর্মকে একীভূত করার একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রবন্ধকারের চূড়ান্ত উপসংহার: প্রবন্ধকার এই সকল তুলনার পর এই সিদ্ধান্তে আসেন যে, কোয়ান্টাম মেথড হলো “দ্বীনে এলাহীর নতুন সংস্করণ”। তবে মূল পার্থক্য হলো, দ্বীনে এলাহীতে হিন্দুধর্মের প্রভাব বেশি ছিল, আর কোয়ান্টামে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব বেশি।
তিনি বলেন, যদি মানবতার কল্যাণই উদ্দেশ্য হয়, তবে সকল ধর্মের মিশ্রণ না করে, ইসলামের সুস্পষ্ট ও সফলতার পথে মানুষকে আহ্বান করা উচিত। তিনি নবী করীম (সাঃ)-এর উদাহরণ দেন, যিনি রোমের সম্রাট হিরাক্লিয়াসকে লেখা চিঠিতে কোনো ধর্মীয় সমন্বয়ের কথা না বলে, সরাসরি ইসলাম গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। লেখকের চূড়ান্ত বক্তব্য হলো—কোয়ান্টামের উচিত সকল ধর্মের মন যুগিয়ে চলার নীতি ত্যাগ করে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা যে, প্রকৃত সফলতা শুধুমাত্র সত্য ধর্ম ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণের মধ্যেই নিহিত।