একজন সুস্থ নারীর মাসিক চক্র সাধারণত ২১ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়। কিন্তু যদি কোনো নারীর মাসিক চক্র ২১ দিনের চেয়ে কম সময়ের ব্যবধানে বারবার হতে থাকে, অর্থাৎ মাসে ২ বা ৩ বার পিরিয়ড হয়, তখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় পলিমেনোরিয়া (Polymenorrhea)।
সাধারণত হরমোনের তারতম্য, মানসিক চাপ বা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে এটি সাময়িক হতে পারে। তবে এটি যদি নিয়মিত ঘটে, তবে তা জরায়ুর টিউমার, থাইরয়েড বা হরমোনাল ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে। নিচে এই সমস্যার বৈজ্ঞানিক ও মেডিক্যাল কারণগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
স্বাভাবিক মাসিক বনাম ‘স্পটিং’: পার্থক্য বোঝা জরুরি
অনেক সময় নারীরা ‘স্পটিং’ (Spotting) বা হালকা রক্তপাতকে পিরিয়ড মনে করে ভুল করেন। মূল কারণ খোঁজার আগে এই পার্থক্য বোঝা জরুরি:
-
মাসিক (Menstruation): যদি রক্তপ্রবাহ প্রচুর হয়, প্যাড ব্যবহার করতে হয় এবং এটি ৩-৭ দিন স্থায়ী হয়।
-
স্পটিং বা ওভুলেশন ব্লিডিং: মাসিকের মাঝখানের সময়ে (যেমন ১৪-১৬ তম দিনে) খুব হালকা রক্তপাত, যা ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশনের কারণে হয়। এটি কোনো রোগ নয় এবং প্যাড ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।
প্রধান কারণসমূহ
আপনার শরীরে নির্দিষ্ট কিছু জৈবিক প্রক্রিয়া (Biological Mechanisms) এবং হরমোন (Entity: Hormone) কাজ করে যা মাসিক নিয়ন্ত্রণ করে। এর ব্যত্যয় ঘটলেই মাসে একাধিকবার মাসিক হতে পারে।
১. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা (Hormonal Imbalance)
মাসিক চক্র মূলত ইস্ট্রোজেন (Estrogen) এবং প্রোজেস্টেরন (Progesterone)—এই দুটি হরমোনের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল।
-
লিউটিয়াল ফেজ ডিফেক্ট (Luteal Phase Defect): ওভুলেশনের পরে শরীরের প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় যাতে জরায়ুর আস্তরণ বা এন্ডোমেট্রিয়াম (Endometrium) ধরে রাখা যায়। যদি প্রোজেস্টেরন পর্যাপ্ত তৈরি না হয় বা খুব দ্রুত কমে যায়, তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আস্তরণ ভেঙে রক্তপাত শুরু হয়। এর ফলেই মাসিক নির্ধারিত সময়ের আগে চলে আসে।
-
অ্যানোভুলেশন (Anovulation): যদি কোনো মাসে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নিসৃত না হয়, তবে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে অনিয়মিত এবং ঘন ঘন রক্তপাত (Breakthrough Bleeding) হতে পারে।
২. থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা (Thyroid Disorders)
থাইরয়েড হরমোন আমাদের প্রজনন তন্ত্রের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
-
হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism): থাইরয়েড হরমোনের কম নিঃসরণ জরায়ুর রক্তক্ষরণ বাড়িয়ে দেয় এবং চক্রকে ছোট করে ফেলে।
-
হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism): হরমোনের মাত্রা অতিরিক্ত হলে মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং ঘন ঘন স্পটিং হতে পারে।
৩. জরায়ু এবং প্রজনন অঙ্গের সমস্যা (Structural Abnormalities)
শারীরিক বা গঠনগত কিছু সমস্যা জরায়ুতে থাকলে ঘন ঘন পিরিয়ড হতে পারে:
-
জরায়ুর ফাইব্রয়েড (Uterine Fibroids): জরায়ুর পেশিতে একধরনের টিউমার বা মাংসপিণ্ড তৈরি হলে তা জরায়ুর ভিতরের অংশে চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে মাসিকের মাঝখানেও ভারী রক্তপাত হতে পারে।
-
পলিপ (Polyps): জরায়ু বা সার্ভিক্সের (জরায়ুমুখ) মুখে ছোট ছোট নরম মাংসপিণ্ড বা পলিপ থাকলে যৌন মিলন বা সামান্য আঘাতেই রক্তপাত হতে পারে, যা অনেক সময় মাসিকের মতো মনে হয়।
-
এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis): যখন জরায়ুর ভেতরের টিস্যু জরায়ুর বাইরে জন্মাতে শুরু করে, তখন প্রচণ্ড ব্যথাসহ অনিয়মিত মাসিক এবং মাসে একাধিকবার রক্তপাত হতে পারে।
৪. সংক্রমণ এবং প্রদাহ (Infection & Inflammation)
প্রতিযোগীদের আর্টিকেলে যা উল্লেখ নেই তা হলো, প্রজনন অঙ্গের সংক্রমণ।
-
পিআইডি (PID – Pelvic Inflammatory Disease): জরায়ু বা ডিম্বনালীতে ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণ হলে যোনিপথে অনিয়মিত রক্তপাত হতে পারে।
-
যৌন সংক্রামিত রোগ (STIs): ক্ল্যামাইডিয়া (Chlamydia) বা গনোরিয়ার (Gonorrhea) মতো সংক্রমণের অন্যতম লক্ষণ হলো পিরিয়ডের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাত।
৫. বয়স এবং জীবনযাত্রার প্রভাব
-
বয়ঃসন্ধি (Puberty): কিশোরীদের মাসিক শুরু হওয়ার প্রথম ১-২ বছর হরমোন সেটেল হতে সময় নেয়, ফলে মাসে দুইবার পিরিয়ড হতে পারে।
-
পেরিমনোপজ (Perimenopause): ৪০-এর উর্ধ্বে নারীদের যখন মেনোপজ বা মাসিক বন্ধ হওয়ার সময় এগিয়ে আসে, তখন ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় ইস্ট্রোজেন লেভেল ওঠানামা করে। ফলে সাইকেল ছোট হয়ে আসে এবং ঘন ঘন পিরিয়ড হয়।
-
জন্মনিরোধক পিল ও ডিভাইস: জন্মবিরতিকরণ পিল খাওয়া হঠাৎ বন্ধ করলে বা কপার-টি (Copper-T) এর মতো জরায়ুর ডিভাইস ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ইস্ট্রোজেন ব্রেক-থ্রু ব্লিডিং বা মাসে দুবার মাসিক হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও মিসক্যারেজ
যারা বিবাহিত বা যৌন জীবনে সক্রিয়, তাদের জন্য মাসে দুবার রক্তপাতের একটি কারণ হতে পারে গর্ভাবস্থা।
-
ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং: গর্ভধারণের শুরুতে ভ্রুণ যখন জরায়ুর গায়ে বসে, তখন হালকা রক্তপাত হতে পারে, যা অনেকে মাসিক ভেবে ভুল করেন।
-
গর্ভপাত (Miscarriage): গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে অনেক সময় অজান্তেই মিসক্যারেজ হয়ে যায়, যার ফলে অনিয়মিত ভারী রক্তপাত দেখা দিতে পারে।
শারীরিক ঝুঁকি
মাসে ২-৩ বার মাসিক হওয়াকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব রয়েছে:
১. রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া (Anemia): শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্ত বেরিয়ে যাওয়ায় হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যায়। ফলে চরম ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট এবং দুর্বলতা দেখা দেয়।
২. ফার্টিলিটি সমস্যা: যদি এটি ওভুলেশনের সমস্যার কারণে হয়, তবে ভবিষ্যতে সন্তান ধারণে জটিলতা হতে পারে।
চিকিৎসা ও সমাধান
ঘন ঘন মাসিক বা পলিমেনোরিয়া (Polymenorrhea) কোনো একটি নির্দিষ্ট রোগ নয়, বরং অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ। তাই এর চিকিৎসা নির্ভর করে মূল কারণটির ওপর। সমস্যা সমাধানে চিকিৎসকরা সাধারণত ৩টি ধাপে এগোতে পারেন:
১. সঠিক রোগ নির্ণয় বা ডায়াগনসিস (Diagnosis)
চিকিৎসা শুরুর আগে জরায়ুর বর্তমান অবস্থা এবং হরমোনের মাত্রা জানা জরুরি। চিকিৎসকরা সাধারণত নিচের পরীক্ষাগুলো করাতে পারেন:
-
রক্ত পরীক্ষা: রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখার জন্য সিবিসি (CBC) এবং হরমোনের অবস্থা বুঝতে থাইরয়েড প্রোফাইল (TSH, T3, T4) ও প্রোলাক্টিন টেস্ট।
-
ইমেজিং টেস্ট: জরায়ুতে টিউমার, সিস্ট বা ফাইব্রয়েড আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে লোয়ার অ্যাবডোমেন আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG) বা আরও নিখুঁত তথ্যের জন্য ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড (TVS) করা হয়।
-
প্যাপ স্মিয়ার ও বায়োপসি: জরায়ুমুখের ক্যান্সার বা ইনফেকশন শনাক্ত করতে এই পরীক্ষাগুলো জরুরি।
২. মেডিক্যাল চিকিৎসা বা ওষুধ প্রয়োগ (Medical Treatment)
পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে ডাক্তাররা নিচের চিকিৎসাগুলো দিয়ে থাকেন:
-
হরমোন থেরাপি (Hormone Therapy): যদি ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের অসামঞ্জস্যতা থাকে, তবে ডাক্তাররা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওরাল কন্ট্রাসেপটিভ পিল (OCP) বা জন্মবিরতিকরণ বড়ি খাওয়ার পরামর্শ দেন। এটি মাসিক চক্রকে নিয়মিত করতে সাহায্য করে।
-
থাইরয়েডের চিকিৎসা: হাইপোথাইরয়েডিজমের কারণে ঘন ঘন পিরিয়ড হলে লেভোথাইরক্সিন (Levothyroxine) জাতীয় ওষুধ দিলে মাসিকের সাইকেল আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে।
-
অ্যান্টিবায়োটিক: যদি জরায়ু বা পেলভিক ইনফেকশনের (PID) কারণে রক্তপাত হয়, তবে এক কোর্স অ্যান্টিবায়োটিক এবং পেইনকিলারেই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
-
আয়রন সাপ্লিমেন্ট: অতিরিক্ত রক্তপাতের ফলে শরীরে সৃষ্ট আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে ফোলিক অ্যাসিড ও আয়রন সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়।
৩. সার্জিক্যাল সমাধান (Surgical Procedures)
যদি ওষুধে কাজ না হয় এবং সমস্যাটি গঠনগত হয় (যেমন বড় টিউমার), তবে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে:
-
মায়োমেকটমি (Myomectomy): জরায়ু না কেটে শুধুমাত্র ফাইব্রয়েড বা টিউমার অপসারণ করা।
-
ডি অ্যান্ড সি (D&C): জরায়ুর দেওয়াল বা এন্ডোমেট্রিয়াম অস্বাভাবিকভাবে পুরু হয়ে গেলে ‘ডায়ালেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ’ বা ডি অ্যান্ড সি পদ্ধতির মাধ্যমে জরায়ু পরিষ্কার করা হয়। এতে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে আসে।
-
হিস্টেরেক্টমি (Hysterectomy): এটি শেষ ধাপ। যদি ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে বা অন্য কোনো উপায়ে রক্তপাত বন্ধ না হয়, তবে জরায়ু কেটে বাদ দেওয়া হয় (সাধারণত ৪০+ বয়সের নারীদের ক্ষেত্রে)।
৪. ঘরোয়া প্রতিকার ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন (Lifestyle Modifications)
যদি বড় কোনো রোগ না থাকে এবং কেবল মানসিক চাপ বা লাইফস্টাইলের কারণে মাসিক ঘন ঘন হয়, তবে নিচের নিয়মগুলো মেনে চললে সুফল পাওয়া যায়:
-
সুষম ডায়েট: শরীরে আয়রনের ঘাটতি মেটাতে কচুশাক, কলিজা, বিটরুট এবং বেদানা বেশি করে খেতে হবে। ওমেগা-৩ যুক্ত খাবার (সামুদ্রিক মাছ, আখরোট) হরমোনের ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
-
ওজন নিয়ন্ত্রণ: পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS) থাকলে ওজন কমানো বা BMI ঠিক রাখা মাসিকের চক্র নিয়মিত করার প্রধান ওষুধ।
-
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: অত্যধিক দুশ্চিন্তা বা কর্টিসল হরমোন প্রোজেস্টেরন কমিয়ে দেয়। তাই পর্যাপ্ত ঘুম এবং যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন মাসিকের সাইকেল ঠিক করতে জাদুর মতো কাজ করে।
কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে ঘরোয়া টোটকা না করে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের (Gynecologist) পরামর্শ নিন:
-
যদি পিরিয়ডের স্থায়িত্ব ৭ দিনের বেশি হয়।
-
যদি রক্তক্ষরণের সাথে বড় আকারের রক্তের চাকা (Blood Clots) বের হয়।
-
যদি এক ঘণ্টার মধ্যে স্যানিটারি প্যাড ভিজে যায়।
-
প্রচণ্ড তলপেটে ব্যথা (Severe Cramps) বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।
-
শ্বাসকষ্ট বা বুকে ধড়ফড়ানি শুরু হয় (অ্যানিমিয়ার লক্ষণ)।
চিকিৎসক সাধারণত আপনার ইতিহাস জেনে আল্ট্রাসনোগ্রাফি (USG of Lower Abdomen), থাইরয়েড টেস্ট (TSH), এবং সিবিসি (CBC) করার পরামর্শ দিতে পারেন সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য।
উপসংহার
মাসে দুইবার পিরিয়ড হওয়া একবার বা দুবার হলে তা স্ট্রেস বা আবহাওয়ার কারণে হতে পারে, কিন্তু এটি নিয়মিত ঘটলে তা শরীরের ভেতর কোনো রোগের ইঙ্গিত দেয়। তাই লজ্জা না পেয়ে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ থাকুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
পাঠকদের মনে এই বিষয় নিয়ে যে প্রশ্নগুলো বারবার আসে, তার বিজ্ঞানসম্মত ও চিকিৎসাবিদ্যা অনুযায়ী উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. এক মাসে দুইবার মাসিক হওয়া কি গর্ভাবস্থার লক্ষণ হতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, অনেক সময় এটি গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘ইমপ্লান্টেশন ব্লিডিং’ (Implantation Bleeding) বলা হয়। ভ্রূণ যখন জরায়ুর দেওয়ালে প্রথমবার সংযুক্ত হয়, তখন সামান্য রক্তপাত হতে পারে। তবে এটি স্বাভাবিক পিরিয়ডের চেয়ে পরিমাণে অনেক কম এবং কম সময়স্থায়ী হয়। রক্তের রঙ গাঢ় লাল না হয়ে কিছুটা বাদামী বা হালকা গোলাপি হতে পারে। নিশ্চিত হতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করা জরুরি।
২. জন্মবিরতিকরণ পিল (Birth Control Pill) খেলে কি ঘন ঘন পিরিয়ড হতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, পারে। যদি আপনি নিয়মিত পিল খেতে ভুলে যান বা পিলের ব্র্যান্ড পরিবর্তন করেন, তবে আপনার শরীরে হরমোনের ভারসাম্য (Hormonal Fluctuations) নষ্ট হতে পারে। এর ফলে উইথড্রয়াল ব্লিডিং (Withdrawal Bleeding) শুরু হতে পারে, যা দেখতে সাধারণ মাসিকের মতোই মনে হয়। এছাড়াও, কপার-টি (IUD) ব্যবহারকারীদের মধ্যেও প্রথম দিকে ঘন ঘন বা অনিয়মিত রক্তপাত দেখা যেতে পারে।
৩. মাসে দুইবার পিরিয়ড হওয়া কি জরায়ু ক্যানসারের লক্ষণ?
উত্তর: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাধারণ হরমোনজনিত বা ইনফেকশনের কারণে হয় এবং ক্যানসার নয়। তবে, মেনোপজ বা মাসিক স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে যদি পুনরায় রক্তপাত শুরু হয়, অথবা ৪০ বছর বয়সের উর্ধ্বে ঘন ঘন এবং অত্যন্ত ভারী রক্তপাত হয়, তবে এটি এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্লাসিয়া (Endometrial Hyperplasia) বা জরায়ুর ক্যানসারের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। এক্ষেত্রে দেরি না করে বায়োপসি বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. শরীরের ওজন বাড়া বা কমার সাথে কি ঘন ঘন পিরিয়ডের সম্পর্ক আছে?
উত্তর: সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের শরীরের ফ্যাট সেল বা চর্বি কোষগুলো ইস্ট্রোজেন (Estrogen) হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত ওজন বেড়ে গেলে শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশনে বাধা দেয় এবং চক্রকে ছোট করে ফেলে। ঠিক একইভাবে, খুব দ্রুত ওজন কমালে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না, যার ফলেও মাসিক অনিয়মিত বা ঘন ঘন হতে পারে।
৫. পলিমেনোরিয়া (Polymenorrhea) কি ঘরোয়া উপায়ে ঠিক করা সম্ভব?
উত্তর: যদি মানসিক চাপ বা সাধারণ জীবনযাত্রার কারণে অনিয়মিত মাসিক হয়, তবে সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ইয়োগা বা ব্যায়ামের মাধ্যমে স্ট্রেস কমিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আয়রন সমৃদ্ধ খাবার (যেমন- কচুশাক, কলিজা, বেদানা) রক্তাল্পতা রোধে সাহায্য করে। তবে সমস্যাটি যদি পিসিওএস (PCOS), থাইরয়েড বা জরায়ুর টিউমার জনিত হয়, তবে ঘরোয়া উপায় কার্যকর নয়; তখন অবশ্যই মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট বা হরমোন থেরাপির প্রয়োজন হবে।
