মানবদেহ একটি জটিল যন্ত্র, যা সময়ের সাথে সাথে এবং অযত্ন অবহেলার কারণে ক্ষয়ে যায়। বিশেষ করে বর্তমান যুগে ভেজাল খাদ্য, মাত্রাতিরিক্ত মানসিক চাপ, রাত জাগা এবং অলস জীবনযাপনের ফলে পুরুষদের মধ্যে যৌন অক্ষমতা, দ্রুত বীর্যপাত, এবং শারীরিক দুর্বলতা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাৎক্ষণিক উত্তেজনার জন্য সিনথেটিক স্টেরয়েড বা রাসায়নিক ট্যাবলেট পাওয়া যায়, যা হয়তো এক রাতের জন্য আপনাকে শক্তি দেবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা আপনার কিডনি, লিভার এবং হার্টের অপূরণীয় ক্ষতি করে।
একজন ইউনানি গবেষক হিসেবে আমি সবসময় প্রকৃতির ওপর ভরসা রাখতে বলি। আমাদের হাজার বছরের প্রাচীন ইউনানি এবং আয়ুর্বেদিক শাস্ত্রে এমন কিছু শক্তিশালী ভেষজ শক্তি বাড়াবোর খাবার রেসিপি বা হালুয়া রয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে ভেতর থেকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব প্রাচীন চিকিৎসাবিদদের দ্বারা পরীক্ষিত এবং ৩৫টি দুর্লভ উপাদান দিয়ে তৈরি একটি রাজকীয় হালুয়া রেসিপি।
এটি কোনো সাধারণ মিষ্টি নয়; এটি ইউনানি পরিভাষায় একটি ‘মাজুন’ বা ‘হালুয়া’ যা শরীরে রক্ত উৎপাদন থেকে শুরু করে শুক্রাণু বৃদ্ধি—সবকিছুতে জাদুকরী ভূমিকা রাখে। চলুন, জেনে নিই ঘরে বসে শক্তি বর্ধক হালুয়া বানানোর নিয়ম এবং এর পেছনের বিজ্ঞান।
কেন এই হালুয়া কাজ করে?
Table of Contents
Toggleইউনানি চিকিৎসাবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো দেহের চারটি হিউমার (Humours) বা দোষের ভারসাম্য রক্ষা করা। যৌন দুর্বলতা বা ‘জুইফে বাহ’ মূলত দেহের হারারাত (উষ্ণতা) এবং রুত্বাত (আর্দ্রতা)-র ভারসাম্যহীনতার কারণে হয়।
আমরা আজ যে কবিরাজি হালুয়া বানানোর নিয়ম আলোচনা করছি, এটি মূলত তিনটি কাজ করে:
১. মুকাব্বি বাহ (Aphrodisiac): যা যৌন আকাঙ্ক্ষা এবং শক্তি বৃদ্ধি করে।
২. মুমসিক (Retentive): যা বীর্যকে ধারণ করে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়।
৩. মুভল্লিদ মানি (Semen Producer): যা নতুন এবং সতেজ বীর্য উৎপাদন করে।
এই হালুয়ায় ব্যবহৃত ৩৫টি উপাদানের প্রতিটি একেকটি নির্দিষ্ট কাজ করে কেউ স্নায়ু উদ্দীপক, কেউ হরমোন ব্যালেন্সার, আবার কেউ বাইন্ডিং এজেন্ট বা আঠা হিসেবে কাজ করে।
হালুয়া তৈরির ৩৫টি উপাদান পরিচিতি ও কার্যকারিতা
একটি কার্যকরী শক্তি বর্ধক হালুয়া তৈরি করতে হলে উপাদানগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি। নিচে আমাদের রেসিপিতে ব্যবহৃত উপাদানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
১. প্রধান ভেষজ (Active Ingredients)
-
শোধন আলকুশী (Purified Velvet Bean): এটি প্রাকৃতিক লেভোডোপা (L-Dopa) এর আধার। এটি সরাসরি পিটুইটারি গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে টেস্টোস্টেরন উৎপাদন বাড়ায়। (সতর্কতা: এটি অবশ্যই শোধন করা হতে হবে, কাঁচা খেলে চুলকানি বা পেটের সমস্যা হতে পারে)।
-
অশ্বগন্ধা (Indian Ginseng): ভেষজ জগতের রাজা। এটি কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন কমায় এবং শরীরের বল বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি বীর্যের পরিমাণ এবং গতিশীলতা (Motility) বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকরী।
-
শতমূল (Asparagus Racemosus): এটি শরীরকে শীতল রাখে এবং প্রজনন অঙ্গের প্রদাহ দূর করে। শুক্রাণুর পুষ্টি জোগাতে এর জুড়ি নেই।
-
শিমুল মূল: বীর্য বর্ধক হালুয়া তৈরিতে এটি অপরিহার্য। এটি বীর্যের ঘনত্ব বাড়াতে এবং ধাতুর তরলতা রোধ করতে ব্যবহৃত হয়।
-
শিলাজুত (Asphaltum): হিমালয়ের পাথর থেকে নির্গত এই নির্যাস শরীরের মাইটোকন্ড্রিয়ায় শক্তি জোগায়। এটি বার্ধক্যরোধী এবং স্ট্যামিনা বুস্টার হিসেবে কাজ করে।
-
স্বর্ণভস্ম বা সোনাভস্ম (Gold Bhasma): এটি অত্যন্ত মূল্যবান একটি ধাতু ভস্ম। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে সজীব করে, হৃদপিণ্ড শক্তিশালী করে এবং যৌন হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে। ইউনানি মতে, এটি ‘মুফারেহ’ বা প্রফুল্লতা আনয়নকারী।
-
আকরকরা: লিঙ্গ শৈথিল্য দূর করতে এবং তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টিতে আকরকরা অতুলনীয়। এটি স্নায়ু উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
-
গোক্ষুর কাঁটা: এটি টেস্টোস্টেরন বুস্টার হিসেবে পরিচিত এবং মূত্রনালীর ইনফেকশন দূর করে কিডনি ভালো রাখে।
২. বীর্য গাঢ় ও স্তম্ভক কারক (Thickening Agents)
-
তালমাখনা: এটি বীর্যের আঠালো ভাব বা Viscosity বৃদ্ধি করে, ফলে দ্রুত স্খলন রোধ হয়।
-
তেতুল বীজ (শোধন): তেতুল বীজ ভেজে খোসা ছাড়িয়ে সাদা অংশটি ব্যবহার করতে হয়। এটি অন্যতম সেরা স্তম্ভক বা বীর্য ধারক।
-
ইসুবগুল: এটি শরীর ঠান্ডা রাখে এবং হালুয়ার বেইস ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যা যৌন স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।
-
বীর্যমণি: নামের সাথেই কাজের মিল। এটি বীর্য ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
-
তালমূল: শারীরিক ক্লান্তি বা ফ্যাটিগ দূর করে এবং ধাতু পুষ্ট করে।
-
বেরেলা: শরীরের মাংপেশি বা টিস্যুগুলোকে শক্তিশালী করে।
৩. গাম বা প্রাকৃতিক আঠা (Binder & Retentive)
-
বাবলা আঠা: এটি হাড় মজবুত করে এবং বীর্যের তরল ভাব কমায়।
-
কাতিলা গাম: এটি শরীরে পুষ্টি জোগায় এবং হালুয়ার ঘনত্ব ঠিক রাখে।
-
মোকদ্দাস: এটিও একটি আঠালো উপাদান যা শরীরের রুত্বাত বা আর্দ্রতা বজায় রাখে।
-
রুমি মস্তকী: এটি অত্যন্ত দামী সুগন্ধি আঠা। এটি লিভার এবং পাকস্থলীকে শক্তিশালী করে, যাতে হালুয়াটি সহজে হজম হয়।
৪. উদ্দীপক মসলা ও হজম কারক (Digestive & Stimulant)
-
জাফরান (ঐচ্ছিক/শাহী ভাব আনার জন্য): যদিও তালিকায় উল্লেখ নেই, তবুও অনেকে দেন। তবে তালিকায় থাকা জায়ফল ও যৌত্রিক প্রাকৃতিকভাবে শরীর গরম করে এবং কামশক্তি জাগিয়ে তোলে।
-
পিপুল মরিচ ও গোল মরিচ: এগুলোকে বলা হয় ‘বায়ো-এনহ্যান্সার’। অর্থাৎ অন্য ভেষজগুলো যেন শরীর সহজে শোষণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করে এই মরিচগুলো।
-
আদা শুট (শুকনা আদা): শরীরের ব্যাথা দূর করে এবং ভেষজগুলোর কার্যকারিতা দ্রুত ছড়িয়ে দেয়।
-
লবঙ্গ, এলাচ, মৌরী: এগুলো সুগন্ধি এবং মুখশুদ্ধিকারক। রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং মেজাজ ফুরফুরে রাখে।
-
জৈন ও জিরা: গ্যাসের সমস্যা দূর করে এবং বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত করে।
-
জেষ্ঠী মধু: গলা ও বুক পরিষ্কার রাখে, আলসার প্রতিরোধ করে এবং হালুয়ায় প্রাকৃতিক মিষ্টতা আনে।
৫. অন্যান্য সহায়ক উপাদান
-
সংখমণি ও পঞ্চভূত: ক্যালসিয়াম ও মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করে।
-
হস্তী কর্ণ পলাশ: যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে আদিবাসী ও ইউনানি চিকিৎসায় এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
-
অনন্তমূল: রক্ত পরিষ্কার করে এবং চর্মরোগ দূরে রাখে।
-
কৃষ্ণদানা (কালোজিরা): সর্বরোগের মহৌষধ। শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম বুস্ট করে।
-
বেনামূল: শরীরের জ্বালাপোড়া বা দাহ প্রশমন করে।
৬. মাধ্যম (Vehicle/Base)
-
ঘি: ইউনানি মতে, ঘি হলো ভেষজের বাহক। এটি ভেষজ গুণাগুণকে শরীরের কোষ পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।
-
দুধ ও চিনি: হালুয়া তৈরির মূল মাধ্যম। চিনির পরিবর্তে তাল মিছরি ব্যবহার করলে গুণাগুণ আরও বাড়ে।
উপাদান প্রস্তুতকরণ ও শোধন প্রক্রিয়া
কবিরাজি হালুয়া তৈরি করার আগে আপনাকে অবশ্যই কিছু উপাদান ‘শোধন’ বা বিশুদ্ধ করতে হবে। সরাসরি কাঁচা ব্যবহার করলে বিষক্রিয়া হতে পারে।
আলকুশী শোধন
বাজার থেকে কেনা আলকুশী বীজ প্রথমে সারা রাত গরুর দুধে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে দেখবেন ওপরের কালো খোসা নরম হয়ে গেছে। হাত দিয়ে ডললে খোসা উঠে যাবে। খোসা ফেলে দিয়ে ভেতরের সাদা শ্বাসটি রোদে শুকিয়ে পাউডার করুন। এই শোধিত আলকুশীই ঔষধ হিসেবে গণ্য।
তেতুল বীজ শোধন
পাকা তেতুলের বিচি কড়াইয়ে ভালো করে ভেজে নিন। এরপর ভিজিয়ে রাখলে বা হালকা আঘাত করলে ওপরের লাল খোসা উঠে যাবে। ভেতরের সাদা অংশটি হামানদিস্তায় গুঁড়ো করে পাউডার বানান।
আঠা বা গাম তৈরি
বাবলা আঠা, কাতিলা গাম, মোকদ্দাস এবং রুমি মস্তকী—এই উপাদানগুলো কাঁচা অবস্থায় পাউডার করা কঠিন এবং আঠালো হয়। তাই এগুলোকে সামান্য ঘিয়ে আলাদা আলাদা ভেজে নিন। ভাজলে এগুলো খৈয়ের মতো ফুলে উঠবে। এরপর সহজেই হাত দিয়ে বা গ্রাইন্ডারে গুঁড়ো করা যাবে।
ভেষজ মিক্স পাউডার তৈরি
বাকি শক্ত শিকড় ও বীজগুলো (অশ্বগন্ধা, শতমূল, আকরকরা, তালমূল, শিমুল মূল, গোল মরিচ, জায়ফল ইত্যাদি) ভালো করে পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে নিন। এরপর গ্রাইন্ডার বা হামানদিস্তায় কুটে একদম মিহি পাউডার (কাপড় ছাঁকা চূর্ণ) তৈরি করুন। এই মিক্সটি হলো আপনার হালুয়ার ‘হার্ট’ বা প্রাণ। সোনাভস্ম ও শিলাজুত বাদে সব পাউডার একসাথে মিশিয়ে রাখুন।
ঘরে বসে শক্তি বর্ধক হালুয়া বানানোর নিয়ম
আসুন এবার ধাপে ধাপে জেনে নিই রাজকীয় হালুয়া রেসিপি প্রস্তুত প্রণালী। সঠিক তাপ এবং মিশ্রণ এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি: একটি বড় লোহার কড়াই বা ভারী তলার নন-স্টিক প্যান এবং কাঠের নাড়ানি।
ধাপ-১: ঘি ও মসলার ফোড়ন
প্রথমে কড়াইয়ে পরিমাণমতো খাঁটি গাওয়া ঘি গরম করুন। ঘি গলে গেলে তাতে এলাচ, লবঙ্গ ও তেজপাতা দিয়ে হালকা ভাজুন যাতে সুন্দর সুঘ্রাণ বের হয়।
ধাপ-২: ভেষজ ভাজা (Cooking Herbs)
ঘি গরম হলে চুলার আঁচ কমিয়ে দিন। এবার আগে থেকে তৈরি করে রাখা ‘ভেষজ মিক্স পাউডার’ অল্প অল্প করে ঘিয়ে ছাড়ুন এবং নাড়তে থাকুন। ৫-৭ মিনিট খুব নিবু আঁচে ভাজুন। এই ধাপটি জরুরি কারণ এতে ভেষজের কাঁচা গন্ধ দূর হয় এবং ঘিয়ের সাথে মিশে ওষুধি গুণ বৃদ্ধি পায়। খেয়াল রাখবেন যেন পুড়ে না যায়।
ধাপ-৩: দুধ ও চিনির সিরা তৈরি
ভাজা ভেষজের মধ্যে এবার পরিমাণমতো ঘন লিকুইড দুধ ঢেলে দিন। দুধ দেওয়ার সাথে সাথে দ্রুত নাড়তে হবে যাতে দলা পাকিয়ে না যায়। মিশ্রণটি ফুটতে শুরু করলে তাতে চিনি যোগ করুন।
ধাপ-৪: বিশেষ উপাদান যোগ
দুধ ঘন হয়ে যখন হালুয়ার মতো থকথকে ভাব আসবে, তখন এর মধ্যে ভেজে গুঁড়ো করে রাখা আঠা বা গামগুলো দিয়ে দিন। এখন নাড়তে নাড়তে দেখবেন হালুয়াটি বেশ আঠালো হচ্ছে।
ধাপ-৫: ফিনিশিং টাচ (শিলাজুত ও ভস্ম)
হালুয়া যখন কড়াইয়ের গা ছেড়ে উঠে আসবে এবং তেল (ঘি) ভেসে উঠবে, তখন বুঝবেন রান্না প্রায় শেষ। এই মুহূর্তে শিলাজুত এবং সোনাভস্ম মিশিয়ে দিন। শিলাজুত ভালো করে মিশতে একটু সময় নিতে পারে। আরও ২-৩ মিনিট নেড়ে নামিয়ে ফেলুন।
সংরক্ষণ: হালুয়া পুরোপুরি ঠান্ডা হলে একটি কাঁচের বয়ামে ভরে রাখুন। এটি ফ্রিজে রাখলে ২-৩ মাস এবং সাধারণ তাপমাত্রায় ১৫-২০ দিন ভালো থাকে।
সেবন বিধি ও মাত্রা
যেকোনো কবিরাজি হালুয়া একটি ওষুধ, তাই এটি খাওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম ও মাত্রা আছে।
-
পূর্ণ বয়স্কদের জন্য: প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ১ চা চামচ এবং রাতে ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে ১ চা চামচ।
-
তরুণদের জন্য (১৮-২৫ বছর): শুধুমাত্র রাতে ১ চা চামচ।
-
অনুপান: হালুয়া খাওয়ার পর অবশ্যই ১ গ্লাস কুসুম গরম দুধ পান করতে হবে। দুধ ছাড়া এই হালুয়ার কার্যকারিতা ধীরগতির হয়।
কোর্স: সমস্যা কতটা গুরুতর তার ওপর ভিত্তি করে ১ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত নিয়মিত খাওয়া উচিত। ইউনানি মতে, ৪০ দিন হলো একটি পূর্ণাঙ্গ সাইকেল বা ‘চিল্লা’, যা পূরণ করা উত্তম।
হালুয়ার উপকারিতা (Benefits)
এই পুরাতন কবিরাজি হালুয়া তৈরির নিয়ম সঠিকভাবে পালন করলে আপনি নিম্নলিখিত উপকারিতা পাবেন:
১. স্থায়ী যৌন শক্তি: এটি লিঙ্গে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং টিস্যুগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে।
২. বীর্যের মান উন্নয়ন: শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি (Sperm Count) এবং বীর্যের গাঢ়ত্ব বাড়াতে এর জুড়ি নেই।
৩. ধাতু দুর্বলতা ও স্বপ্নদোষ রোধ: যারা ধাতু দুর্বলতায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি টনিকের মতো কাজ করে।
৪. স্নায়ুবিক শক্তি ও মানসিক প্রশান্তি: সোনাভস্ম ও অশ্বগন্ধা থাকার কারণে এটি ডিপ্রেশন কমায়, ঘুম ভালো করে এবং স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে।
৫. বাত ব্যাথা ও ইমিউনিটি: জয়েন্টের ব্যথা দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৬. ক্ষুধা ও হজম: গোলমরিচ ও পিপুল থাকার কারণে এটি হজমশক্তিও বাড়ায়।
সতর্কতা ও কিছু জরুরি পরামর্শ
একজন ইউনানি ছাত্র হিসেবে আমার নৈতিক দায়িত্ব আপনাদের সঠিক পথ দেখানো। কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি:
-
অবিবাহিতদের জন্য: এই হালুয়া প্রচুর যৌন উদ্দীপনা তৈরি করে। তাই অবিবাহিতদের এটি এড়িয়ে চলাই ভালো, নতুবা অতিরিক্ত উত্তেজনায় স্বপ্নদোষের মাত্রা বাড়তে পারে।
-
উচ্চ রক্তচাপ (High BP): যাদের হাই ব্লাড প্রেশার আছে, তারা সোনাভস্ম ও লবণাক্ত উপাদানগুলো বাদ দিতে পারেন অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।
-
ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস রোগীরা চিনি বা মিছরি বাদ দিয়ে এটি তৈরি করবেন।
-
ভেজাল উপাদান: হালুয়ার কার্যকারিতা ১০০% নির্ভর করে উপাদানগুলোর বিশুদ্ধতার ওপর। বিশেষ করে শিলাজুত, সোনাভস্ম এবং কস্তুরী জাতীয় উপাদানগুলো বিশ্বস্ত স্থান থেকে কিনবেন।
খাদ্যাভ্যাস ও পরহেজ
হালুয়া চলাকালীন সময়ে কিছু নিয়ম মানলে ফলাফল দ্রুত পাওয়া যায়:
-
বেশি বেশি পানি পান করতে হবে।
-
টক, অতিরিক্ত ঝাল এবং ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করুন।
-
ধূমপান ও মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
-
চেষ্টা করবেন রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে।
শেষ কথা
প্রিয় পাঠক, ঘরে বসে শক্তি বর্ধক হালুয়া বানানোর নিয়ম জানার মাধ্যমে আপনারা হয়তো অনুধাবন করতে পারছেন যে, আয়ুর্বেদ ও ইউনানি শাস্ত্র কতটা বিজ্ঞানসম্মত। বাজার থেকে কেনা কেমিক্যালযুক্ত ওয়ানটাইম উত্তেজনার বড়ি পরিহার করে প্রাকৃতিক উপাদানে ভরসা রাখুন। ৩৫টি উপাদান সংগ্রহ করা হয়তো একটু কষ্টসাধ্য, কিন্তু নিজের সুস্থতার জন্য এইটুকু কষ্ট করাই যায়।
আপনার যদি এই রেসিপি বা উপাদান সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকে, অথবা উপাদানগুলো চিনতে সমস্যা হয়, তবে নির্দ্বিধায় আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করাই আমার লক্ষ্য।
আল্লাহ্ আমাদের সকলকে রোগমুক্ত ও সুস্থ জীবন দান করুন।
লেখক পরিচিতি ও যোগাযোগ
সুলতান মাহমুদ
ভেষজ গবেষক ও শিক্ষার্থী
খুলনা ইউনানি মেডিকেল কলেজ।
মোবাইল: ০১৯১০৪৮৫৩৬৭
(বি.দ্র: চিকিৎসা বিষয়ক যেকোনো পরামর্শের জন্য ফোন করতে পারেন, অথবা সরাসরি সাক্ষাতের জন্য যোগাযোগ করুন)