পুরুষাঙ্গের দৈর্ঘ্য ও বেধ সঠিকভাবে পরিমাপের ক্লিনিক্যাল পদ্ধতি

Salihat Health Report
পেনিসের সাইজ ঠিক আছে কি না জানুন

📍 সািলহাত ফুড পরামর্শ:

আপনার আকার যদি গড়ের তুলনায় ছোট ও চিকন মনে হয়, তবে প্রাকৃতিকভাবে স্থায়ী সমাধানের জন্য আমাদের এই প্রিমিয়াম হারবাল প্যাকেজটি এখনই চেক করুন।

মেডিসিন প্যাকেজটি দেখুন
স্থায়ী সমাধানের জন্য অভিজ্ঞ হেকিম সুলতান স্যারের সাথে সরাসরি কথা বলুন:

ভুলভাবে পরিমাপ নেওয়ার ফলে সাধারণত দুটি সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমত, একজন পুরুষ নিজের প্রকৃত সাইজ সম্পর্কে হীনমন্যতায় ভুগতে পারেন যা মনস্তাত্ত্বিক উদ্বেগের (Penis Size Anxiety) সৃষ্টি করে। দ্বিতীয়ত, ভুল মাপের কন্ডোম ব্যবহারের ফলে সেটি ছিঁড়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত টাইট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ এবং এসটিডি (STD) ছড়ানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, সঠিকভাবে লিঙ্গ পরিমাপের পদ্ধতি হলো ‘Bone-Pressed’ বা হাড় পর্যন্ত চেপে ধরা পদ্ধতি। এটি মূলত লিঙ্গের সেই অংশটুকু পরিমাপ করে যা শারীরিক গঠনভেদে চামড়ার নিচে লুকানো থাকতে পারে।


লিঙ্গের দৈর্ঘ্য পরিমাপের সঠিক প্রোটোকল (Length Measurement)

বৈজ্ঞানিক গবেষণায়, বিশেষ করে লন্ডনের কিংস কলেজের চিকিৎসক ডেভিড ভিল (David Veale)-এর বিখ্যাত স্টাডিতে লিঙ্গের দৈর্ঘ্য পরিমাপের জন্য Bone-Pressed Erect Length (BPEL) পদ্ধতিকে আদর্শ মান ধরা হয়েছে।

পরিমাপের প্রস্তুতির ধাপ (Pre-Measurement)

পরিমাপ শুরু করার আগে কিছু বায়োমেট্রিক প্রস্তুতি জরুরি:

  • সর্বোচ্চ উত্তেজনা (Peak Erection): লিঙ্গ যখন পূর্ণাঙ্গভাবে উত্থিত বা ইরেকশন প্রাপ্ত হবে, তখনই দৈর্ঘ্য মাপতে হবে। আংশিক উত্তেজনা ভুল তথ্য প্রদান করে।

  • রুমের তাপমাত্রা (Temperature Control): কক্ষের তাপমাত্রা যেন খুব শীতল না হয়। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় রক্তনালী সংকুচিত হয় (Vasoconstriction), যা টিস্যুর প্রসারণ কমিয়ে দিতে পারে।

কার্যনির্বাহী ধাপসমূহ (Procedural Execution – BPEL Method)

১. একটি শক্ত রুলার (Hard Ruler) ব্যবহার করুন। পরিমাপের শুরুতে লিঙ্গের উপরের দিকের অংশ (Dorsal side) ব্যবহার করবেন।
২. রুলারের এক প্রান্ত লিঙ্গের গোড়ায় এমনভাবে স্থাপন করুন যেখানে সেটি পেটের দেয়াল বা শ্রোণীচক্রের অস্থির (Pubic Bone) সাথে মিলিত হয়।
৩. বিশিষ্ঠ সতর্কবার্তা: অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে পেটের নিচের অংশে অতিরিক্ত চর্বি বা ফ্যাট প্যাড (Mons Pubis) থাকতে পারে। নিখুঁত মাপ পেতে হলে রুলারটিকে এই চর্বির ভেতর দিয়ে হালকাভাবে চেপে ধরে হাড় পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। এটিকেই ‘বোন-প্রেসড’ পদ্ধতি বলা হয়।
৪. রুলারটিকে সোজা রেখে লিঙ্গের গোড়া থেকে লিঙ্গমুণ্ডের একদম শেষ সীমানা বা টিপ (Meatus) পর্যন্ত দৈর্ঘ্য রেকর্ড করুন।

কেন এই পদ্ধতি সঠিক?
মানুষের লিঙ্গের গঠন অভ্যন্তরীণ ligaments এবং প্রোস্টেটের নিচে শুরু হয়। শরীরের বাইরের মেদ বা চর্বি এই মাপকে খাটো করে দেখাতে পারে। বোন-প্রেসড পদ্ধতি এই শারীরিক তারতম্য (Variance) দূর করে ডাটা সংকলন করে।


লিঙ্গের বেধ বা পরিধি পরিমাপ (Girth/Circumference)

দৈর্ঘ্যের চেয়েও যৌন তৃপ্তি এবং সঠিক কন্ডোম ফিটিংয়ের ক্ষেত্রে বেধ বা গার্থ (Girth) বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পদ্ধতি:

  • একটি নমনীয় ফিতা (Flexible Measuring Tape) বা সুতা ব্যবহার করুন। রুলার দিয়ে সরাসরি বেধ মাপা সম্ভব নয়।

  • লিঙ্গের মাঝামাঝি অংশে (Shaft এর ঠিক মাঝখানে) ফিতাটি গোল করে পেঁচিয়ে ধরুন।

  • ফিতা বা সুতা যেখানে একটি পূর্ণ বৃত্ত পূরণ করেছে, সেই পয়েন্টটি মার্ক করুন।

  • ফিতার মাপটি রেকর্ড করুন। যদি সুতা ব্যবহার করেন, তবে সুতার দৈর্ঘ্যটি রুলারে মেপে মান বের করুন।

নোমিলাল উইডথ (Nominal Width) এর ক্যালকুলেশন:
অনেকে লিঙ্গের পরিধি (Circumference) থেকে এর ব্যাস (Diameter) বা প্রস্থ (Width) বের করতে চান, যা কন্ডোম কেনার সময় প্রয়োজন হয়। এর গাণিতিক সূত্রটি হলো:

প্রস্থ (Width) = পরিধি ÷ ৩.১৪ (PI)
উদাহরণস্বরূপ, যদি পরিধি ৪.৭ ইঞ্চি হয়, তবে ৩.১৪ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় প্রায় ১.৫ ইঞ্চি।


সুস্থ স্বাভাবিক মান (Global Statistical Distribution)

বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার পুরুষদের ওপর করা ক্লিনিক্যাল গবেষণার ডাটা (Veale’s Nomogram 2015) অনুসারে আদর্শ লিঙ্গ পরিমাপের পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:

অবস্থা গড় দৈর্ঘ্য (Length) গড় পরিধি/বেধ (Girth)
উত্থিত (Erect) ৫.১৬ ইঞ্চি (১৩.১ সেমি) ৪.৫৯ ইঞ্চি (১১.৬৫ সেমি)
শিথিল (Flaccid) ৩.৬১ ইঞ্চি (৯.১৬ সেমি) ৩.৬৬ ইঞ্চি (৯.৩১ সেমি)

পার্সেন্টাইল অ্যানালাইসিস:

  • ৯০তম পার্সেন্টাইল: যদি কারো দৈর্ঘ্য ৬ ইঞ্চি বা তার বেশি হয়, তবে তিনি পৃথিবীর সেরা ১০% পুরুষদের তালিকায় আছেন।

  • ১০ম পার্সেন্টাইল: ৪.৩ ইঞ্চির কম দৈর্ঘ্য কেবল ১০% পুরুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়।


লিঙ্গ পরিমাপ নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার ও বৈজ্ঞানিক খণ্ডন

লিঙ্গের সাইজ নিয়ে সাধারণ সমাজে এমন কিছু প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা (Myths) রয়েছে যার সাথে বিজ্ঞানের কোনো সম্পর্ক নেই:

১. পায়ের মাপ ও লিঙ্গের সম্পর্ক (Shoe Size Myth): গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে একজন পুরুষের জুতার মাপ বা আঙুলের দৈর্ঘ্যের সাথে লিঙ্গের সাইজের কোনো পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক (Correlation) নেই।
২. শরীরের উচ্চতা (Height correlation): লম্বার সাথে লিঙ্গের দৈর্ঘ্যের যোগসূত্র খুবই নগণ্য। লিঙ্গের টিস্যু প্রধানত অ্যান্ডোজেন হরমোন এবং বংশগতির ওপর নির্ভর করে।
৩. জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব: প্রচলিত ধারণা যে বিশেষ কিছু জাতিগত গোষ্ঠী জন্মগতভাবে বড় লিঙ্গের অধিকারী হয়—এটি বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আধুনিক ইউরোলজি ডেটা অনুযায়ী, পদ্ধতিগত পরিমাপ করা হলে সারা বিশ্বের পুরুষদের মাঝে পার্থক্য ১ সেন্টিমিটারেরও কম থাকে।


বিশেষ চিকিৎসাগত অবস্থা: মাইক্রোপেনিস এবং হাইড পেনিস

অনেক সময় সঠিক পদ্ধতিতে না মাপলে লিঙ্গ খাটো মনে হতে পারে, যা নিচের কন্ডিশনগুলো দ্বারা প্রভাবিত হয়:

  • মাইক্রোপেনিস (Micropenis): চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের উত্থিত লিঙ্গের মাপ যদি ৩.২ ইঞ্চির চেয়েও কম হয়, তখনই তাকে মাইক্রোপেনিস বলা হয়। এটি মূলত একটি হরমোনজনিত সমস্যা যা শৈশবকালে হরমোন থেরাপির মাধ্যমে সমাধান করা যায়।

  • হাইড বা বারিড পেনিস (Buried Penis): তলপেটে অতিরিক্ত ওজন বা ফ্যাট থাকলে লিঙ্গ ভেতর দিকে ঢুকে যায়। এর ফলে মাপ ছোট মনে হলেও ইরেকশনের সময় এটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ওজন কমানোর মাধ্যমেই এটি স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব।


কন্ডোম সাইজিং ও কমফোর্ট নির্বাচন

লিঙ্গের বেধ অনুসারে কন্ডোম নির্বাচন করার সাধারণ গাইডলাইন:

  • সলিড/লিম (Snug/Slim Fit): ৪ ইঞ্চি থেকে ৪.৫ ইঞ্চি পরিধির জন্য।

  • রেগুলার (Standard Fit): ৪.৬ থেকে ৫.২ ইঞ্চি পরিধির জন্য।

  • লার্জ (XL/Large): ৫.৩ ইঞ্চির বেশি পরিধির জন্য।

কন্ডোম ছোট হলে টিস্যুর ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে ইরেকশন নষ্ট করতে পারে এবং খুব বড় হলে যোনিপথের ভেতর এটি খুলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সঠিকভাবে বেধ নির্ণয় করে ড্রাগ স্টোর বা অনলাইনের সাইজ চার্টের সাথে মিলিয়ে নেওয়া উচিত।


উপসংহার: মনস্তাত্ত্বিক গ্রহণযোগ্যতা

মনে রাখবেন, লিঙ্গের পরিমাপের বৈচিত্র্য মানবদেহের একটি স্বাভাবিক অঙ্গ। বেশিরভাগ পুরুষ নিজেকে লিঙ্গ হীনম্মন্যতায় ফেলেন কারণ তারা ভুল ডেটা বা অতিরঞ্জিত মাধ্যমের ওপর নির্ভর করেন। উপরের নির্দেশিকা অনুসারে বোন-প্রেসড পদ্ধতিতে আপনার মাপটি নিন এবং নিজেকে ক্লিনিক্যাল গড়ের সাথে তুলনা করুন। যদি ফলাফল ৪ ইঞ্চির উপরে থাকে, তবে যৌন মিলনে এবং প্রজনন ক্ষমতায় এটি সম্পূর্ণরূপে কার্যকরী এবং সক্ষম।

যদি কারো ইরেকশন বা আকৃতিগত কোনো উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য থাকে (যেমন: পেয়রোনি ডিজিজ বা লিঙ্গ অত্যধিক বেঁকে যাওয়া), তবে পরিমাপ করার চেয়েও একজন রেজিস্টার্ড উরোলজিস্টের (Urologist) পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।

তথ্যসূত্র:

  • British Journal of Urology International (Veale et al.)

  • NHS (National Health Service) Sexual Health Division

  • International Society for Sexual Medicine (ISSM)

Shopping Cart
error: Content is protected !!
Scroll to Top