🔒 গোপনীয়তার সাথে যৌন রোগের ফ্রি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন: — WhatsApp:          🔒 গোপনীয়তার সাথে যৌন রোগের ফ্রি পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করুন: — WhatsApp:         
অশ্বগন্ধা

অশ্বগন্ধা: উপকারিতা, ব্যবহার, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সম্পূর্ণ গাইড

লেখক: হেকিম সুলতান মাহমুদ

অশ্বগন্ধা হলো একটি আয়ুর্বেদিক ভেষজ উদ্ভিদ যার বৈজ্ঞানিক নাম Withania somnifera এবং ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্রে পরিচিত নাম অশ্বগন্ধা (Ashwagandha) এটি Solanaceae পরিবারের একটি ক্ষুদ্র চিরহরিৎ গুল্ম যা ভারতীয় উপমহাদেশ, উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে জন্মায়।

অশ্বগন্ধা গাছের উচ্চতা ৩৫ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। ঔষধি কাজে মূলত এই গাছের শিকড় (Root) পাতা (Leaves) ব্যবহৃত হয়।

আয়ুর্বেদ চিকিৎসাশাস্ত্রে অশ্বগন্ধাকে ‘রসায়ন’ (Rasayana) শ্রেণিভুক্ত করা হয়। রসায়ন হলো এমন ভেষজ দ্রব্য যা শরীরের বার্ধক্য প্রতিরোধ করে এবং জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করে। আধুনিক বিজ্ঞানে এটিকে ‘Adaptogen’ বলা হয় — যার অর্থ এটি শরীরকে মানসিক ও শারীরিক চাপ (Stress) সামলাতে সাহায্য করে।

অশ্বগন্ধার মূল পরিচিতি (Entity-Attribute-Value)

Table of Contents

  • বৈজ্ঞানিক নাম: Withania somnifera
  • ইউনানি নাম: আসগন্ধ (Asgandh)
  • ইংরেজি নাম: Indian Ginseng / Winter Cherry / Ashwagandha
  • পরিবার: Solanaceae
  • উৎপত্তি: ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, আফ্রিকা, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল
  • ব্যবহৃত অংশ: শিকড়, পাতা, বীজ, ফল
  • আয়ুর্বেদিক শ্রেণি: রসায়ন (Rasayana) ও বাজীকরণ (Vajikarana)
  • আধুনিক শ্রেণি: Adaptogen

অশ্বগন্ধার সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান কী কী?

অশ্বগন্ধায় ৩টি প্রধান সক্রিয় যৌগ গোষ্ঠী রয়েছে: Withanolides, Alkaloids এবং Saponins এই ৩টি উপাদান একসাথে অশ্বগন্ধার ঔষধিগুণ নির্ধারণ করে। National Institutes of Health (NIH)-এর গবেষণা অনুযায়ী, Withanolides এর মধ্যে Withaferin A সবচেয়ে জৈবসক্রিয় উপাদান।

১. Withanolides

Withanolides হলো স্টেরয়েডাল ল্যাকটোন শ্রেণির যৌগ যা শুধুমাত্র Withania somnifera-এ পাওয়া যায়। এই যৌগগুলো প্রদাহ-বিরোধী (Anti-inflammatory), টিউমার-বিরোধী (Anti-tumor) এবং ইমিউনোমডুলেটরি (Immunomodulatory) কার্যক্রম সম্পাদন করে।

  • Withaferin A: ক্যান্সার-বিরোধী ও প্রদাহ-বিরোধী সক্রিয়তা দেখায়
  • Withanolide D: টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে
  • Withanolide A: স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষায় কাজ করে (Neuroprotective)

২. Alkaloids

অশ্বগন্ধার Alkaloids এর মধ্যে ৩টি প্রধান উপাদান হলো Withanine, Somniferine এবং Somnine। এই তিনটি Alkaloid কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে (Central Nervous System) শান্ত করে এবং ঘুমের মান উন্নত করে।

৩. Saponins

Saponins হলো গ্লাইকোসাইড যৌগ যা অশ্বগন্ধার শিকড়ে পাওয়া যায়। এই যৌগগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune Function) বৃদ্ধি করে এবং কোলেস্টেরল শোষণ হ্রাস করে।

৪. অন্যান্য উপাদান

  • Iron (লোহা): রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সাহায্য করে
  • Choline: মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে
  • Amino acids: পেশী গঠনে ভূমিকা রাখে
  • Flavonoids: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে

অশ্বগন্ধা পুরুষের জন্য কী কী উপকার করে?

অশ্বগন্ধা পুরুষের জন্য ৫টি প্রমাণিত উপকার প্রদান করে: টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধি, শুক্রাণুর সংখ্যা গতিশীলতা উন্নয়ন, যৌন শক্তি বৃদ্ধি, শারীরিক কর্মক্ষমতা উন্নতি এবং মানসিক চাপ হ্রাস এই উপকারগুলো Indian Journal of Psychological Medicine (2012) সহ একাধিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রমাণিত।

১. টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধি

ফার্টিলিটি ও স্টেরিলিটি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় (Mahdi et al., 2009) দেখা গেছে যে, ৩ মাস প্রতিদিন ৫ গ্রাম অশ্বগন্ধার শিকড়ের গুঁড়া সেবনে পুরুষের সিরাম টেস্টোস্টেরন মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

২. শুক্রাণুর মান উন্নয়ন

Evidence-Based Complementary and Alternative Medicine জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় (Ambiye et al., 2013) প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, অশ্বগন্ধা সেবনে শুক্রাণুর সংখ্যা (Sperm Count) ১৬৭% বৃদ্ধি পায় এবং শুক্রাণুর গতিশীলতা (Motility) ৫৭% বৃদ্ধি পায়।

৩. যৌন শক্তি ও শক্তি বৃদ্ধি

ইউনানি চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী, অশ্বগন্ধা ‘বাজীকারক’ ভেষজ। অর্থাৎ এটি পুরুষের যৌন শক্তি ও কার্যক্ষমতা (Sexual Vitality) বৃদ্ধি করে। অশ্বগন্ধায় থাকা Withanolide D নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) উৎপাদন বাড়িয়ে রক্তনালী প্রসারিত করে।

৪. শারীরিক কর্মক্ষমতা উন্নতি

Journal of the International Society of Sports Nutrition-এ প্রকাশিত গবেষণায় (Wankhede et al., 2015) দেখা গেছে যে, ৮ সপ্তাহ অশ্বগন্ধা সেবনে পুরুষের পেশীর শক্তি (Muscle Strength) ও পুনরুদ্ধার ক্ষমতা (Recovery) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

অশ্বগন্ধা মহিলাদের জন্য কী কী উপকার করে?

অশ্বগন্ধা মহিলাদের জন্য ৪টি প্রধান উপকার প্রদান করে: হরমোন ভারসাম্য রক্ষা, থাইরয়েড কার্যকারিতা উন্নয়ন, মানসিক চাপ উদ্বেগ হ্রাস এবং যৌন সুস্থতা উন্নয়ন Journal of Ethnopharmacology-সহ একাধিক গবেষণায় এই উপকারগুলো প্রমাণিত হয়েছে।

১. হরমোন ভারসাম্য রক্ষা

অশ্বগন্ধা অ্যাডাপ্টোজেন হিসেবে HPA (Hypothalamic-Pituitary-Adrenal) অক্ষের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে। এই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কর্টিসল (Cortisol) হরমোনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রতিরোধ হয়। কর্টিসল নিয়ন্ত্রিত থাকলে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনের ভারসাম্য বজায় থাকে।

২. থাইরয়েড কার্যকারিতা উন্নয়ন

Journal of Alternative and Complementary Medicine-এ প্রকাশিত গবেষণায় (Sharma et al., 2018) প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, ৮ সপ্তাহ অশ্বগন্ধার রুট এক্সট্র্যাক্ট সেবনে Subclinical Hypothyroidism রোগীদের TSH মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসে এবং T3 ও T4 হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

৩. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ হ্রাস

Indian Journal of Psychological Medicine-এ প্রকাশিত গবেষণায় (Chandrasekhar et al., 2012) দেখা গেছে যে, ৬০ দিন অশ্বগন্ধার হাই-কনসেনট্রেশন রুট এক্সট্র্যাক্ট সেবনে অংশগ্রহণকারীদের স্ট্রেস স্কোর ৪৪% এবং সিরাম কর্টিসল মাত্রা ২৭.৯% হ্রাস পায়।

৪. যৌন সুস্থতা উন্নয়ন

BioMed Research International-এ প্রকাশিত গবেষণায় (Dongre et al., 2015) প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, অশ্বগন্ধার রুট এক্সট্র্যাক্ট মহিলাদের যৌন উত্তেজনা, পরিতৃপ্তি এবং লুব্রিকেশন উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে।

অশ্বগন্ধার সাধারণ উপকারিতা কী কী?

অশ্বগন্ধার ৯টি সাধারণ উপকারিতা প্রমাণিত হয়েছে: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ঘুমের মান উন্নয়ন, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, প্রদাহ হ্রাস, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নয়ন, হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস, ক্যান্সারবিরোধী সক্রিয়তা, থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ এবং পেশী শক্তি বৃদ্ধি

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি (Immunity Boost)

Journal of Ethnopharmacology-এ প্রকাশিত গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, অশ্বগন্ধা ন্যাচারাল কিলার (NK) সেল ও ম্যাক্রোফেজের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। এই দুটি ইমিউন কোষ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

২. ঘুমের মান উন্নয়ন (Sleep Quality)

অশ্বগন্ধায় থাকা Trimethylene Glycol (TEG) যৌগ GABA রিসেপ্টরকে (Gamma-Aminobutyric Acid Receptor) সক্রিয় করে। এই সক্রিয়তা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং ঘুমের সময়কাল ও গভীরতা বৃদ্ধি করে। Sleep Medicine জার্নালে (Langade et al., 2019) প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৬০ দিন অশ্বগন্ধা সেবনে ঘুমের মান ৭২% উন্নত হয়।

৩. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ (Blood Sugar Regulation)

Journal of Ethnopharmacology-এ প্রকাশিত মেটা-অ্যানালাইসিসে (Dagar & Jacobs, 2023) প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, অশ্বগন্ধা ফাস্টিং ব্লাড গ্লুকোজ ও HbA1c উভয়ই হ্রাস করে। Withanolides ইনসুলিন সিগনালিং পাথওয়ে উন্নত করে গ্লুকোজ শোষণ বাড়ায়।

৪. প্রদাহ হ্রাস (Anti-inflammation)

অশ্বগন্ধায় থাকা Withaferin A প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইন (Pro-inflammatory Cytokines) যেমন TNF-α, IL-1β এবং IL-6 এর উৎপাদন বাধা দেয়। এই বাধার ফলে গাউট, আর্থ্রাইটিস এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ হ্রাস পায়।

৫. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নয়ন (Brain Function)

Phytomedicine জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় (Choudhary et al., 2017) দেখা গেছে যে, ৮ সপ্তাহ অশ্বগন্ধার রুট এক্সট্র্যাক্ট সেবনে স্মৃতিশক্তি (Memory), মনোযোগ (Attention) এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণ গতি (Information Processing Speed) উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।

৬. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস

অশ্বগন্ধা LDL কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড হ্রাস করে এবং HDL কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে। Journal of the International Society of Sports Nutrition-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৮ সপ্তাহ সেবনে মোট কোলেস্টেরল ৯% এবং ট্রাইগ্লিসারাইড ১১% হ্রাস পায়।

অশ্বগন্ধা কীভাবে খাবেন এবং সঠিক ডোজ কত?

অশ্বগন্ধার প্রমাণিত কার্যকর ডোজ হলো প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৬০০ মিলিগ্রাম স্ট্যান্ডার্ডাইজড রুট এক্সট্র্যাক্ট গুঁড়া আকারে ডোজ হলো ১ থেকে ২ চা চামচ (৩ থেকে ৬ গ্রাম) প্রতিদিন। খাওয়ার সেরা সময় হলো রাতে ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে বা সকালে নাস্তার সাথে।

অশ্বগন্ধা সেবনের ৪টি প্রধান পদ্ধতি

  • গুঁড়া (Powder): ১ চা চামচ অশ্বগন্ধার গুঁড়া ১ গ্লাস উষ্ণ দুধে মিশিয়ে পান করুন। প্রয়োজনে মধু মেশানো যায়।
  • ক্যাপসুল/ট্যাবলেট (Capsule): প্রতিটি ক্যাপসুল সাধারণত ৩০০ বা ৫০০ মিলিগ্রাম এক্সট্র্যাক্ট ধারণ করে। দিনে ১ থেকে ২টি ক্যাপসুল পানিসহ গ্রহণ করুন।
  • কাঁচা শিকড় (Raw Root): ১ থেকে ২ গ্রাম শুকনো শিকড় পানিতে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে চা তৈরি করে পান করুন।
  • তরল নির্যাস (Liquid Extract/Tincture): প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০ থেকে ৬০ ফোঁটা পানিতে মিশিয়ে সেবন করুন।

ডোজের নির্দেশিকা

  • প্রাপ্তবয়স্ক (সাধারণ স্বাস্থ্য): প্রতিদিন ৩০০–৫০০ মিলিগ্রাম এক্সট্র্যাক্ট
  • চাপ ও উদ্বেগ কমাতে: প্রতিদিন ৬০০ মিলিগ্রাম এক্সট্র্যাক্ট (২ ডোজে বিভক্ত)
  • টেস্টোস্টেরন ও শুক্রাণুর মান উন্নয়নে: প্রতিদিন ৫ গ্রাম গুঁড়া
  • ঘুমের মান উন্নয়নে: রাতে ঘুমানোর আগে ৬০০ মিলিগ্রাম
  • সেবনকাল: ন্যূনতম ৮ সপ্তাহ একটানা সেবন করলে পূর্ণ ফলাফল পাওয়া যায়

অশ্বগন্ধার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?

অশ্বগন্ধা সাধারণত নিরাপদ, তবে অতিরিক্ত মাত্রায় বা সংবেদনশীল ব্যক্তির ক্ষেত্রে ৫টি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়: বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটে অস্বস্তি, মাথাব্যথা এবং অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা World Health Organization (WHO)-এর মনোগ্রাফ অনুযায়ী, অশ্বগন্ধার কোনো মারাত্মক বিষক্রিয়া (Severe Toxicity) রিপোর্ট করা হয়নি।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত

  • বমি বমি ভাব ও বমি: খালি পেটে সেবনে দেখা দেয়। খাওয়ার সাথে সেবন করলে এই সমস্যা এড়ানো যায়।
  • ডায়রিয়া: উচ্চ মাত্রায় (১০ গ্রামের বেশি) সেবনে দেখা দিতে পারে।
  • পেটের অস্বস্তি: পরিপাকতন্ত্রে হালকা জ্বালাপোড়া বা গ্যাসের সমস্যা।
  • অতিরিক্ত ঘুম: উচ্চ ডোজে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উপর শামক (Sedative) প্রভাব বাড়ে।
  • লিভার সংক্রান্ত: বিরল ক্ষেত্রে (খুব উচ্চ মাত্রায়) হেপাটোটক্সিসিটির রিপোর্ট পাওয়া গেছে — BMJ Case Reports (2020)।

অশ্বগন্ধা সেবনে কোন বিষয়ে সতর্ক থাকবেন?

অশ্বগন্ধা সেবনে ৬টি বিষয়ে সতর্ক থাকা আবশ্যক: গর্ভাবস্থা, থাইরয়েড ওষুধ, ডায়াবেটিসের ওষুধ, ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট, অ্যালার্জি এবং অস্ত্রোপচারের আগে

৬টি সতর্কতা বিস্তারিত

  • গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান: গর্ভবতী নারী অশ্বগন্ধা সেবন করবেন না। গর্ভাশয়ের সংকোচন (Uterine Contractions) ঘটাতে পারে।
  • থাইরয়েড ওষুধ: অশ্বগন্ধা থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বাড়ায়। থাইরয়েড ওষুধের সাথে সেবনে ওষুধের ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়।
  • ডায়াবেটিসের ওষুধ: অশ্বগন্ধা রক্তের গ্লুকোজ কমায়। ইনসুলিন বা অ্যান্টিডায়াবেটিক ওষুধের সাথে সেবনে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (অতিরিক্ত রক্তে শর্করা হ্রাস) হতে পারে।
  • ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট ওষুধ: অশ্বগন্ধা ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় করে। অটোইমিউন রোগ (যেমন: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস) এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা পরিবর্তন করতে পারে।
  • অ্যালার্জি: Solanaceae পরিবারের উদ্ভিদে (টমেটো, আলু, বেগুন) অ্যালার্জি থাকলে অশ্বগন্ধায় প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
  • অস্ত্রোপচারের আগে: অশ্বগন্ধার শামক (Sedative) প্রভাব অ্যানেস্থেশিয়ার সাথে মিথস্ক্রিয়া করে। অস্ত্রোপচারের ন্যূনতম ২ সপ্তাহ আগে সেবন বন্ধ করুন।

অশ্বগন্ধা সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর

অশ্বগন্ধা প্রতিদিন খাওয়া কি নিরাপদ?

প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৬০০ মিলিগ্রাম স্ট্যান্ডার্ডাইজড রুট এক্সট্র্যাক্ট সেবন নিরাপদ। টানা মাস পর্যন্ত প্রতিদিন সেবনের নিরাপত্তা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রমাণিত দীর্ঘমেয়াদি সেবনে প্রতি ৩ মাসে ২ সপ্তাহের বিরতি নেওয়া পরামর্শযোগ্য।

অশ্বগন্ধা কতদিনে কাজ শুরু করে?

অশ্বগন্ধার প্রাথমিক প্রভাব (ঘুম উন্নয়ন ও মানসিক চাপ হ্রাস) সেবন শুরুর থেকে সপ্তাহের মধ্যে অনুভব করা যায় টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধি ও পেশী শক্তির মতো শারীরিক পরিবর্তনে ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় লাগে।

অশ্বগন্ধা কি দুধের সাথে খেলে বেশি উপকার হয়?

আয়ুর্বেদ চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী, দুধের সাথে অশ্বগন্ধা সেবনে উপাদানগুলোর জৈবউপলব্ধতা (Bioavailability) বৃদ্ধি পায় দুধের ফ্যাট Withanolides-এর শোষণ সহজ করে। ঘুমের উন্নয়নে রাতে উষ্ণ দুধের সাথে সেবন বিশেষভাবে কার্যকর।

অশ্বগন্ধা কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?

অশ্বগন্ধা সরাসরি ওজন কমায় না, তবে কর্টিসল হ্রাস করে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে Journal of Evidence-Based Integrative Medicine-এ প্রকাশিত গবেষণায় (Choudhary et al., 2017) দেখা গেছে যে, ৮ সপ্তাহ সেবনে BMI ও শরীরের ফ্যাটের পরিমাণ হ্রাস পায়।

অশ্বগন্ধার গন্ধ কেন এত তীব্র?

অশ্বগন্ধার তীব্র ঘোড়ার মতো গন্ধের কারণ হলো এতে থাকা স্টেরয়েডাল ল্যাকটোন যৌগ (Steroidal Lactones) সালফার যৌগ (Sulfur Compounds)‘অশ্বগন্ধা’ নামটি সংস্কৃত থেকে এসেছে — ‘অশ্ব’ মানে ঘোড়া ও ‘গন্ধ’ মানে গন্ধ।

শিশুরা কি অশ্বগন্ধা খেতে পারবে?

১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধার নিরাপত্তা নিয়ে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ডেটা নেই ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা উচিত নয়।

উপসংহার

অশ্বগন্ধা আয়ুর্বেদ ও ইউনানি চিকিৎসার একটি বহুমাত্রিক ভেষজ যা ৩০০০ বছরের ঐতিহ্যকে আধুনিক বিজ্ঞানের প্রমাণ দিয়ে শক্তিশালী করেছে। পুরুষের টেস্টোস্টেরন ও যৌনশক্তি থেকে শুরু করে মহিলার হরমোন ও থাইরয়েড, এবং সবার জন্য ঘুম, মানসিক চাপ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা — সব মিলিয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যাডাপ্টোজেন।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (References)

  • Chandrasekhar, K. et al. (2012) — A Prospective, Randomized Double-Blind, Placebo-Controlled Study of Safety and Efficacy of a High-Concentration Full-Spectrum Extract of Ashwagandha Root in Reducing Stress and Anxiety in Adults. Indian Journal of Psychological Medicine, 34(3), 255–262. https://doi.org/10.4103/0253-7176.106022
  • Wankhede, S. et al. (2015) — Examining the effect of Withania somnifera supplementation on muscle strength and recovery. Journal of the International Society of Sports Nutrition, 12, 43. https://doi.org/10.1186/s12970-015-0104-9
  • Ambiye, V.R. et al. (2013) — Clinical Evaluation of the Spermatogenic Activity of the Root Extract of Ashwagandha (Withania somnifera) in Oligospermic Males. Evidence-Based Complementary and Alternative Medicine. https://doi.org/10.1155/2013/571420
  • Langade, D. et al. (2019) — Efficacy and Safety of Ashwagandha Root Extract in Insomnia and Anxiety. Medicine, 98(37). https://doi.org/10.1097/MD.0000000000017186
  • Sharma, A.K. et al. (2018) — Efficacy and Safety of Ashwagandha Root Extract in Subclinical Hypothyroid Patients. Journal of Alternative and Complementary Medicine, 24(3), 243–248. https://doi.org/10.1089/acm.2017.0183
  • Dongre, S. et al. (2015) — Efficacy and Safety of Ashwagandha Root Extract in Improving Sexual Function in Women. BioMed Research International. https://doi.org/10.1155/2015/284154
  • Dagar, V. & Jacobs, R. (2023) — Effects of Ashwagandha on Blood Glucose. Journal of Ethnopharmacology. Meta-analysis.
  • WHO Monographs on Selected Medicinal Plants — Volume 4, Radix Withaniae. World Health Organization, Geneva.
  • Mahdi, A.A. et al. (2009) — Withania somnifera Improves Semen Quality. Fertility and Sterility, 92(3). https://doi.org/10.1016/j.fertnstert.2009.07.997
  • Choudhary, D. et al. (2017) — Efficacy and Safety of Ashwagandha Root Extract in Improving Memory and Cognitive Functions. Journal of Dietary Supplements / Phytomedicine.
Shopping Cart
Scroll to Top