কুশতা বয়জা উনানি চিকিৎসার একটি শাস্ত্রীয় ক্যালসাইনড প্রস্তুতি, যার পূর্ণ নাম কুশতা বয়জা মুরগ। মুরগির ডিমের খোসা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে পুড়িয়ে এই ওষুধ তৈরি হয়। উনানি চিকিৎসকরা এটি জিরিয়ান, সুরআতে ইনযাল ও প্রদর নিয়ন্ত্রণে নির্দেশ করেন। এই লেখায় এর উপাদান, প্রস্তুত প্রণালী, কার্যপদ্ধতি, মাত্রা ও ঝুঁকি — প্রতিটি দিক ক্রমানুসারে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
কুশতা বয়জা কী?
কুশতা বয়জা মুরগ হলো মুরগির ডিমের খোসা থেকে তাকলীস পদ্ধতিতে প্রস্তুত একটি উনানি ক্যালসাইনড ওষুধ, ইংরেজি পরিভাষায় যাকে Ovi Testa Calx বলা হয়। এটি সাদা, গন্ধহীন, অতি সূক্ষ্ম গুঁড়া। ন্যাশনাল ফর্মুলারি অব উনানি মেডিসিন-এ এটি একটি স্বীকৃত একক ফর্মুলেশন।
আরবি ভাষায় “বয়জা” অর্থ ডিম, ফারসি “মুরগ” অর্থ মুরগি। অর্থাৎ নামটির আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় — মুরগির ডিমের কুশতা।
“কুশতা” শব্দটি এসেছে ফারসি কুশতন থেকে, যার অর্থ “মেরে ফেলা”। উনানি পরিভাষায় কুশতা বলতে বোঝায় এমন একটি ডোজ ফর্ম, যা অত্যন্ত অল্প মাত্রায় ব্যবহৃত হয় এবং দ্রুত কাজ করে। কাঁচা উপাদানের স্থূল প্রকৃতি তাপের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয় বলেই এই নামকরণ।
উনানি মিজাজ অনুসারে কুশতা বয়জার প্রকৃতি বারিদ (শীতল)। এই শীতল প্রকৃতির কারণেই চিকিৎসকরা একে উত্তেজনাজনিত ও ক্ষরণজনিত সমস্যায় ব্যবহার করেন, উত্তেজক ওষুধ হিসেবে নয়।
কুশতা বয়জার উপাদান ও গঠন
শাস্ত্রীয় কুশতা বয়জা মুরগ প্রস্তুত হয় চারটি উপাদান থেকে — পোস্ত বয়জা মুরগ (ডিমের খোসা), শীর-এ-আক (আকন্দের কষ), লবণ পানি এবং চুনের পানি। বাজারজাত ট্যাবলেট ফর্মে (কুরস) এর সঙ্গে আররুট স্টার্চ বাইন্ডার হিসেবে যুক্ত হয়।
উপাদানগুলোর ভূমিকা আলাদা আলাদা:
১. পোস্ত বয়জা মুরগ — মূল দ্রব্য। ডিমের খোসার প্রধান রাসায়নিক উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট। ক্যালসিনেশনের পর এটি সহজে শোষণযোগ্য ক্যালসিয়াম যৌগে রূপ নেয়।
২. শীর-এ-আক — আকন্দ গাছের সাদা কষ। এটি মুদাব্বির বা শোধক হিসেবে কাজ করে এবং খোসার কণাকে সূক্ষ্ম করতে সাহায্য করে।
৩. লবণ পানি ও চুনের পানি — শোধন ও ভিজানোর মাধ্যম। এগুলো খোসার উপরিভাগের ঝিল্লি ও অপদ্রব্য দূর করে।
৪. আররুট — শুধুমাত্র ট্যাবলেট গঠনের জন্য ব্যবহৃত নিষ্ক্রিয় উপাদান।
কাঁচা আকন্দের কষ ত্বক ও শ্লেষ্মাঝিল্লিতে তীব্র জ্বালা তৈরি করে। ক্যালসিনেশন প্রক্রিয়ায় এই কষ সম্পূর্ণ পুড়ে যায় বলেই প্রস্তুত কুশতায় এর বিষক্রিয়া থাকে না — শর্ত হলো ক্যালসিনেশন পূর্ণাঙ্গ হতে হবে।
কুশতা বয়জা কীভাবে তৈরি হয়?
কুশতা বয়জা তৈরির শাস্ত্রীয় পদ্ধতির নাম তাকলীস (Calcination) — নিয়ন্ত্রিত তাপে উপাদানকে তার অক্সাইড বা কার্বনেট রূপে পরিণত করার প্রক্রিয়া। গবেষণা সাহিত্যে কুশতাকে উনানি চিকিৎসার প্রাচীনতম ন্যানো-ডোজ ফর্ম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
ধাপ ১ — তাসফিয়া বা শোধন
ডিমের খোসা সংগ্রহ করে ভেতরের ঝিল্লি সম্পূর্ণ ছাড়ানো হয়। এরপর খোসা লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়, পরে চুনের পানিতে। প্রতিটি ধাপের পর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ছায়ায় শুকানো হয়।
ধাপ ২ — খরল ও তিকিয়া গঠন
শুকনো খোসা খরলে (পাথরের মর্টার) নিয়ে শীর-এ-আক দিয়ে ঘষা হয়, যতক্ষণ না একটি সমসত্ত্ব মণ্ড তৈরি হয়। এই মণ্ড থেকে চাকতি আকৃতির তিকিয়া বানিয়ে রোদে শুকানো হয়।
ধাপ ৩ — গিল-এ-হিকমত ও ইহরাক
শুকনো তিকিয়া মাটির পাত্রে (বুতা) রেখে পাত্রের মুখ কাপড়-মাটির প্রলেপ বা গিল-এ-হিকমত দিয়ে বায়ুরোধী করে সিল করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানিতে পোড়ানো হয়। চুল্লি নিজে থেকে ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত পাত্র খোলা হয় না।
ধাপ ৪ — কুশতার মান যাচাই
ঠান্ডা হওয়ার পর প্রাপ্ত সাদা গুঁড়া পুনরায় খরল করা হয়। শাস্ত্রীয় পরীক্ষায় দেখা হয় গুঁড়া পানিতে ভাসে কিনা এবং আঙুলের রেখায় বসে যায় কিনা — এগুলো পূর্ণ ক্যালসিনেশনের সূচক।
গিল-এ-হিকমতের সিল ঠিকমতো না বসলে বা তাপমাত্রা অপর্যাপ্ত হলে ক্যালসিনেশন অসম্পূর্ণ থাকে। অসম্পূর্ণ কুশতা সেবনযোগ্য নয়।
কুশতা বয়জা কি ঘরে তৈরি করা সম্ভব?
ঘরোয়া পরিবেশে সেবনযোগ্য মানের কুশতা বয়জা তৈরি করা নিরাপদ নয় — কারণ এখানে তিনটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিষয় ঘরে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না: তাপমাত্রা, ক্যালসিনেশনের পূর্ণতা এবং চূড়ান্ত পণ্যের মান পরীক্ষা।
ঝুঁকিগুলো সুনির্দিষ্ট:
- অসম্পূর্ণ দহনে আকন্দের কষের জ্বালাকর উপাদান অবশিষ্ট থেকে যায়
- অপরিশোধিত খোসায় জীবাণু বা অপদ্রব্য থেকে যেতে পারে
- মাত্রা মিলিগ্রাম এককে — ঘরে এই সূক্ষ্মতায় ওজন করা যায় না
- ভারী ধাতুর উপস্থিতি পরীক্ষা করার কোনো ঘরোয়া উপায় নেই
উপরের ধাপগুলো এখানে দেওয়া হয়েছে শিক্ষামূলক ও শাস্ত্রীয় জ্ঞানের অংশ হিসেবে, ব্যবহারিক নির্দেশনা হিসেবে নয়। লাইসেন্সপ্রাপ্ত উনানি দাওয়াখানা থেকে প্রস্তুত কুশতা সংগ্রহ করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে তৈরি করা কুশতা সেবন করবেন না।
কুশতা বয়জা কীভাবে কাজ করে?
উনানি তত্ত্ব অনুযায়ী কুশতা বয়জা তার বারিদ বা শীতল প্রকৃতির মাধ্যমে কাজ করে — এটি সংশ্লিষ্ট অঙ্গের অতিরিক্ত হরারত বা উষ্ণতা প্রশমিত করে এবং অতিরিক্ত ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনে। একে কাবিয বা সংকোচক এবং মুকাব্বি বা শক্তিবর্ধক শ্রেণিতে রাখা হয়।
আধুনিক বিশ্লেষণে এর প্রধান সক্রিয় উপাদান ক্যালসিয়াম যৌগ। ক্যালসিয়াম স্নায়ু পরিবহন ও মাংসপেশির সংকোচন-প্রসারণে ভূমিকা রাখে। এই ভিত্তিতেই এটি ক্যালসিয়াম ঘাটতিজনিত অবস্থায় ব্যবহৃত হয়।
তবে যৌন সমস্যায় এর কার্যকারিতার পক্ষে নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রকাশিত হয়নি। এই নির্দেশনাগুলো শাস্ত্রীয় ও প্রচলিত অভিজ্ঞতাভিত্তিক।
কুশতা বয়জার প্রচলিত ব্যবহার
উনানি চিকিৎসায় কুশতা বয়জা মুরগ প্রধানত চারটি অবস্থায় নির্দেশিত হয় — জিরিয়ান-ও-মযি, সুরআতে ইনযাল, সায়লানুর রেহম বা প্রদর এবং কাসরাতে বাউল। ক্যালসিয়ামের উৎস হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়।
পুরুষদের ক্ষেত্রে
জিরিয়ান বা অনিচ্ছাকৃত বীর্যক্ষরণ, ইহতিলাম বা স্বপ্নদোষ এবং সুরআতে ইনযাল বা দ্রুত বীর্যপাতে চিকিৎসকরা এটি নির্দেশ করেন। শুক্রাণুর সংখ্যা কম থাকলেও একে সহায়ক ওষুধের তালিকায় রাখা হয়।
এই তিনটি অবস্থার কারণ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে — হরমোনজনিত, স্নায়ুজনিত, সংক্রমণজনিত বা মানসিক। কারণ নির্ণয় না করে শুধু ওষুধ সেবনে স্থায়ী ফল আসে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ গ্রহণ করবেন না।
নারীদের ক্ষেত্রে
সায়লানুর রেহম বা শ্বেতপ্রদর এবং অতিরিক্ত যোনিস্রাব নিয়ন্ত্রণে এটি নির্দেশিত। প্রদরের পেছনে সংক্রমণ থাকলে শুধু কুশতায় সমাধান হয় না — চিকিৎসকের পরীক্ষা আবশ্যক।
অন্যান্য নির্দেশনা
কাসরাতে বাউল বা ঘন ঘন প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে এবং খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না পাওয়া ব্যক্তিদের ঘাটতি পূরণে এটি ব্যবহৃত হয়।
সেবনবিধি ও মাত্রা
প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী কুশতা বয়জা মুরগের প্রচলিত মাত্রা ৬০ মিলিগ্রাম, মাখন ও এক গ্লাস দুধের সঙ্গে। কোনো কোনো প্রস্তুতিতে দিনে দুইবার ১২৫ মিলিগ্রাম করে ২৫০ মিলিলিটার দুধের সঙ্গে সেবনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ট্যাবলেট বা কুরস আকারে প্রতিটি ২৬০ মিলিগ্রামের দুইটি ট্যাবলেট নির্দেশিত।
সেবনের কয়েকটি ব্যবহারিক দিক:
- দুধ বা মাখনের সঙ্গে সেবন করলে শোষণ ভালো হয়
- খালি পেটে বা রাতে ঘুমানোর আগে সেবন প্রচলিত
- ওষুধের কৌটা প্রতিবার ব্যবহারের পর শক্ত করে বন্ধ রাখুন
- শুকনো ও ঠান্ডা জায়গায়, শিশুদের নাগালের বাইরে সংরক্ষণ করুন
উপরের সংখ্যাগুলো বাণিজ্যিক প্রস্তুতির লেবেল-নির্দেশনা। আপনার বয়স, ওজন, রোগের ধরন ও সহাবস্থানে থাকা অন্য রোগের ভিত্তিতে মাত্রা বদলায়। ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে সবসময় চিকিৎসকের নির্দেশিত মাত্রায় সেবন করুন। স্ব-চিকিৎসা এখানে প্রযোজ্য নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
নির্ধারিত মাত্রায় প্রস্তুত কুশতা বয়জা সাধারণত সহনীয়, তবে অতিরিক্ত মাত্রা ও নিম্নমানের প্রস্তুতি — এই দুটি জায়গা থেকেই প্রকৃত ঝুঁকি আসে। ক্যালসিয়ামভিত্তিক ওষুধ অতিরিক্ত সেবনে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা ও কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিটি আসে বাইরে থেকে — মানহীন প্রস্তুতিতে ভারী ধাতুর দূষণ। প্রকাশিত কেস রিপোর্ট ও পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির কিছু ক্যালসাইনড প্রস্তুতিতে সিসা, পারদ ও আর্সেনিকের উপস্থিতি রোগীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতা, পেটে তীব্র ব্যথা, লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাস ও স্নায়বিক জটিলতা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ এ বিষয়ে আলাদা সতর্কতা জারি করেছে।
ঝুঁকি কমানোর করণীয়:
- লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও পরিচিত প্রস্তুতকারকের পণ্য কিনুন
- খোলা বা লেবেলবিহীন কুশতা কিনবেন না
- ব্যাচ নম্বর ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই করুন
- দীর্ঘমেয়াদে সেবন করলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকুন
পেটে অব্যাখ্যাত ব্যথা, ক্লান্তি, রক্তস্বল্পতা বা স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দিলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
সতর্কতা: গর্ভাবস্থা, শিশু ও দীর্ঘমেয়াদী রোগী
গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা, শিশু এবং কিডনি বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য কুশতা বয়জা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া প্রযোজ্য নয়। এই দলগুলোর ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য ও ভারী ধাতুর সংবেদনশীলতা — দুটিই সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে আলাদা।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান: এই সময়ে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বাড়ে ঠিকই, কিন্তু ওষুধের উৎস ও বিশুদ্ধতা নিশ্চিত না হলে ঝুঁকি মায়ের সঙ্গে শিশুর কাছেও পৌঁছায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করবেন না।
শিশু: গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ধাতব দূষণজনিত বিষক্রিয়ায় শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ স্ব-উদ্যোগে প্রয়োগ করবেন না।
কিডনি রোগ: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শরীর থেকে বের হতে পারে না। কিডনি রোগীদের জন্য এটি চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া নিষিদ্ধ।
অন্য ওষুধের সঙ্গে: ক্যালসিয়াম কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, থাইরয়েড ও আয়রন ওষুধের শোষণে বাধা দেয়। নিয়মিত কোনো ওষুধ চললে চিকিৎসককে জানান।
আসল কুশতা চেনার উপায়
মানসম্পন্ন কুশতা বয়জা দেখতে সম্পূর্ণ সাদা, অতি সূক্ষ্ম, গন্ধহীন ও দানামুক্ত। শাস্ত্রীয় পরীক্ষায় দুটি লক্ষণ ধরা হয় — গুঁড়া পানির উপর ভেসে থাকে এবং আঙুলের ভাঁজের রেখায় মিশে যায়।
ক্রয়ের সময় যা দেখবেন:
১. প্যাকেটে প্রস্তুতকারকের নাম, লাইসেন্স নম্বর ও ঠিকানা আছে কিনা ২. উপাদানের তালিকা স্পষ্টভাবে লেখা আছে কিনা ৩. উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মুদ্রিত আছে কিনা ৪. গুঁড়ায় ধূসর বা কালচে দানা, বা ধাতব গন্ধ আছে কিনা
ধূসর আভা বা কর্কশ দানা অসম্পূর্ণ ক্যালসিনেশনের লক্ষণ। এ ধরনের পণ্য ব্যবহার করবেন না।
সম্পর্কিত উনানি ফর্মুলেশন
ন্যাশনাল ফর্মুলারি অব উনানি মেডিসিন-এ কুশতা বয়জা মুরগ একক ওষুধ হিসেবে এবং যৌগিক ফর্মুলেশনের উপাদান হিসেবে — দুইভাবেই তালিকাভুক্ত। যৌগিক প্রস্তুতিতে এটি কুশতা কলই ও কুশতা খবসুল হাদীদের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
এই যৌগিক ট্যাবলেটগুলোর নির্দেশিত ব্যবহার — যোফে উমুমি বা সাধারণ দুর্বলতা, জিরিয়ান-ও-মযি এবং কাসরাতে বাউল।
কুশতা বয়জা একটি সহায়ক ওষুধ, একক সমাধান নয়। উনানি চিকিৎসায় একে সাধারণত ইলাজ বিত তাদবীর অর্থাৎ জীবনযাপন সংশোধন ও পথ্যের সঙ্গে একত্রে প্রয়োগ করা হয়।
উপসংহার
কুশতা বয়জা মুরগ উনানি চিকিৎসার একটি সুপ্রাচীন ও স্বীকৃত প্রস্তুতি। ডিমের খোসা থেকে তাকলীস পদ্ধতিতে তৈরি এই ক্যালসিয়ামভিত্তিক ওষুধ জিরিয়ান, সুরআতে ইনযাল, প্রদর ও ঘন ঘন প্রস্রাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এর প্রকৃত উপকার নির্ভর করে দুটি বিষয়ের উপর — প্রস্তুতির মান এবং সঠিক রোগনির্ণয়। নিম্নমানের কুশতা উপকারের বদলে ক্ষতি ডেকে আনে, আর কারণ না জেনে ওষুধ সেবনে সমস্যা ফিরে আসে।
প্রশ্নোত্তর (FAQ)
১. কুশতা বয়জা কি ডিম থেকেই তৈরি হয়?
কুশতা বয়জা মুরগ তৈরি হয় মুরগির ডিমের খোসা থেকে, ডিমের ভেতরের অংশ থেকে নয়। খোসা শোধন করে আকন্দের কষের সঙ্গে খরল করে ক্যালসিনেশনের মাধ্যমে এই ওষুধ প্রস্তুত হয়।
২. কুশতা বয়জা খেলে দ্রুত বীর্যপাত স্থায়ীভাবে সেরে যাবে?
কোনো একক ওষুধ দ্রুত বীর্যপাত স্থায়ীভাবে সারানোর নিশ্চয়তা দেয় না। এর পেছনে হরমোনজনিত, স্নায়ুজনিত বা মানসিক কারণ থাকতে পারে। কারণ নির্ণয় ও সমন্বিত চিকিৎসাই স্থায়ী ফল দেয়।
৩. কুশতা বয়জার সঠিক মাত্রা কত?
প্রস্তুতকারকের নির্দেশনায় প্রচলিত মাত্রা ৬০ মিলিগ্রাম মাখন ও দুধের সঙ্গে; কোনো প্রস্তুতিতে দিনে দুইবার ১২৫ মিলিগ্রাম দুধসহ। ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশিত মাত্রায় সেবন করুন।
৪. কুশতা বয়জা কতদিন খেতে হয়?
সেবনের মেয়াদ রোগের ধরন ও তীব্রতার উপর নির্ভর করে। দীর্ঘমেয়াদে সেবনের সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নেওয়া প্রয়োজন, কারণ অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম কিডনিতে চাপ ফেলতে পারে।
৫. কুশতা বয়জা কি নারীরাও খেতে পারেন?
উনানি চিকিৎসায় শ্বেতপ্রদর ও অতিরিক্ত যোনিস্রাব নিয়ন্ত্রণে নারীদের জন্য এটি নির্দেশিত। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রযোজ্য নয়।
৬. কুশতা বয়জায় ভারী ধাতুর ঝুঁকি আছে কি?
মূল উপাদান ডিমের খোসা হওয়ায় ফর্মুলেশনটি ধাতুভিত্তিক নয়। ঝুঁকি আসে নিম্নমানের ও অননুমোদিত প্রস্তুতি থেকে, যেখানে দূষণজনিত সিসা বা আর্সেনিক পাওয়ার নজির রয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎস থেকে কিনুন।
৭. কুশতা বয়জা কি ঘরে বানানো যাবে? ঘরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ক্যালসিনেশনের পূর্ণতা যাচাই ও মিলিগ্রাম এককে ওজন — কোনোটিই সম্ভব নয়। তাই ঘরে তৈরি কুশতা সেবন নিরাপদ নয়। লাইসেন্সপ্রাপ্ত দাওয়াখানা থেকে সংগ্রহ করুন।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স
১. Tariq M, Chaudhary SS, Imtiyaz S. Introduction to Kushta: A Herbo-mineral Unani Formulation. Journal of Pharmaceutical Science and Innovation. — https://www.jpsionline.com/articles/introduction-to-kushta-a-herbomineral-unani-formulation.pdf
২. National Formulary of Unani Medicine. Central Council for Research in Unani Medicine (CCRUM), Department of AYUSH, Government of India. — কুশতা বয়জা মুরগ-এর অন্তর্ভুক্তি ও যৌগিক ফর্মুলেশনে ব্যবহার।
৩. The Unani Pharmacopoeia of India, Vol. 3. Department of AYUSH, Government of India; 2007.
৪. Hamdard Qurs Kushta Baiza Murgh — পণ্য মনোগ্রাফ ও মাত্রা নির্দেশনা, Netmeds. — https://www.netmeds.com/product/hamdard-qurs-kushta-baiza-murgh-60s-lui35n-8260766
৫. U.S. Food and Drug Administration. FDA warns about heavy metal poisoning associated with certain unapproved ayurvedic drug products. — https://www.fda.gov/drugs/fraudulent-products/fda-warns-about-heavy-metal-poisoning-associated-certain-unapproved-ayurvedic-drug-products
৬. Lead and arsenic intoxications by traditional and alternative medicine: men are more sensitive than women. Naunyn-Schmiedeberg’s Archives of Pharmacology; 2024. — https://link.springer.com/article/10.1007/s00210-024-03317-y
৭. Saper RB, Phillips RS, Sehgal A, et al. Lead, mercury, and arsenic in US- and Indian-manufactured ayurvedic medicines sold via the Internet. JAMA. 2008;300(8):915–923.
দ্রষ্টব্য: কুশতা বয়জা মুরগের যৌন সমস্যায় কার্যকারিতা নিয়ে নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল — প্রাপ্ত নয়। এই লেখার সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো শাস্ত্রীয় উনানি সাহিত্য ও প্রচলিত ব্যবহারভিত্তিক।
