ইউনানি চিকিৎসায় প্রতিটি মানুষের একটি নির্দিষ্ট মিযাজ বা স্বভাব থাকে — যা নির্ধারণ করে তাঁর শরীর কতটা গরম, ঠান্ডা, শুষ্ক বা আর্দ্র। যখন এই স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন শরীরে নানা রোগ জন্ম নেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) Traditional Medicine Strategy 2019–2023 অনুযায়ী, প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি ইউনানি-আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাচ্ছে। এই আর্টিকেলে আমরা গভীরভাবে বুঝব সুয়ে মিযাজ কী, কেন হয় এবং প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে সমাধান করা যায়।

মিযাজ কী?
মিযাজ (Mizaj) শব্দটি আরবি — অর্থ ‘স্বভাব’ বা ‘প্রকৃতি’। ইউনানি চিকিৎসাবিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা (Ibn Sina, ৯৮০–১০৩৭ খ্রি.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল-কানুন ফিত-তিব্ব‘ (Canon of Medicine)-এ মিযাজকে চার মৌলিক গুণের সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন:
১। হার (Harr) — উষ্ণ/গরম গুণ
২। বার্দ (Bard) — শীতল/ঠান্ডা গুণ
৩। রাতব (Ratb) — আর্দ্র/ভেজা গুণ
৪। ইয়াবিস (Yabis) — শুষ্ক গুণ
এই চারটি গুণের মিশেলে প্রতিটি মানুষের মিযাজ গঠিত হয়। যেমন — কারও মিযাজ হতে পারে ‘হার-রাতব’ (উষ্ণ ও আর্দ্র), কারও ‘বার্দ-ইয়াবিস’ (শীতল ও শুষ্ক)। আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, এটি অনেকটা আধুনিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘জৈব রাসায়নিক ব্যক্তিত্ব বৈচিত্র্য’ (biochemical individuality)-এর ধারণার সাথে মিলে যায়।
চার ধরনের মূল মিযাজ
| মিযাজ | গুণ | সাধারণ বৈশিষ্ট্য | সংশ্লিষ্ট অঙ্গ/তরল |
| দামাভি (Damawi) | হার-রাতব (উষ্ণ-আর্দ্র) | প্রাণবন্ত, সক্রিয়, সামাজিক | রক্ত (Dam) |
| সাফরাভি (Safrawi) | হার-ইয়াবিস (উষ্ণ-শুষ্ক) | রাগী, সিদ্ধান্তমুখী, পাতলা | পিত্ত (Safra) |
| বালগামি (Balgami) | বার্দ-রাতব (শীতল-আর্দ্র) | ধীর, শান্ত, মোটাসোটা | কফ (Balgam) |
| সাওদাভি (Sawdawi) | বার্দ-ইয়াবিস (শীতল-শুষ্ক) | দুশ্চিন্তাপ্রবণ, বিষণ্ণ, শীর্ণ | কৃষ্ণ পিত্ত (Sauda) |
সুয়ে মিযাজ কী এবং কীভাবে চেনা যায়?
‘সুয়ে মিযাজ’ (Sue Mizaj) অর্থ মিযাজের বিকৃতি বা ভারসাম্যহীনতা। যখন কোনো কারণে শরীরের স্বাভাবিক মিযাজ পরিবর্তিত হয়ে যায় — গরম মানুষের মিযাজ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, বা শীতল মানুষের মিযাজ আরও ঠান্ডা হয়ে পড়ে — তখন সুয়ে মিযাজ ঘটে। ইউনানি বিশেষজ্ঞরা এটিকে সকল রোগের প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করেন।
সুয়ে মিযাজের দুই ভাগ
- সুয়ে মিযাজ সাদা (Maddah ছাড়া): শুধুমাত্র গুণের পরিবর্তন, কোনো দূষিত পদার্থ ছাড়া।
- সুয়ে মিযাজ মাদ্দি (Maddah সহ): দূষিত তরল বা পদার্থের কারণে মিযাজ বিকৃতি — এটি বেশি জটিল।
সুয়ে মিযাজের লক্ষণ
সুয়ে মিযাজে আক্রান্ত ব্যক্তির বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়:
- সুয়ে মিযাজ হার (অতিরিক্ত গরম): অতিরিক্ত পিপাসা, জ্বালাপোড়া, ত্বক লাল হওয়া, অনিদ্রা, অস্থিরতা
- সুয়ে মিযাজ বার্দ (অতিরিক্ত ঠান্ডা): হজমশক্তি দুর্বল, শরীর ভারী, অলসতা, ঘন ঘন ঠান্ডা লাগা
- সুয়ে মিযাজ রাতব (অতিরিক্ত আর্দ্র): শ্লেষ্মা বেশি, ওজন বৃদ্ধি, ফোলাভাব, ঘুমের প্রবণতা
- সুয়ে মিযাজ ইয়াবিস (অতিরিক্ত শুষ্ক): ত্বক খসখসে, কোষ্ঠকাঠিন্য, জয়েন্টে ব্যথা, উদ্বেগ
সুয়ে মিযাজের মূল কারণগুলো
ইউনানি চিকিৎসায় রোগের কারণকে ‘আসবাব’ (Asbab) বলা হয়। সুয়ে মিযাজের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ কাজ করে:
১. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস (Soo-ul-Ghizaa)
নিজের মিযাজের বিপরীত খাবার খাওয়া সুয়ে মিযাজের অন্যতম প্রধান কারণ। উদাহরণস্বরূপ — যার মিযাজ ইতিমধ্যে উষ্ণ, সে যদি প্রতিদিন তেলমসলাযুক্ত, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মরিচযুক্ত খাবার খায়, তাহলে তার মিযাজ হার (অতিরিক্ত গরম) হয়ে যাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার (ultra-processed food) দীর্ঘমেয়াদে শরীরের প্রদাহ বৃদ্ধি করে — যা ইউনানি দৃষ্টিতে সুয়ে মিযাজ হারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২. পরিবেশগত কারণ (Hawaa wal Makan)
আবহাওয়া, জলবায়ু এবং বাসস্থানের পরিবেশ মিযাজে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত তাপ এবং বর্ষায় অতিরিক্ত আর্দ্রতা মিযাজ ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। বিশেষত যারা শহুরে পরিবেশে বায়ু দূষণের মধ্যে থাকেন, তাদের ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের মিযাজ বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
৩. অনিয়মিত ঘুম ও বিশ্রাম (Naum wal Yaqaza)
রাত জেগে থাকা এবং দিনে ঘুমানোর অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক তাপ-আর্দ্রতার ভারসাম্য নষ্ট করে। আধুনিক বিজ্ঞানও নিশ্চিত করেছে যে ঘুমের ব্যাঘাত হরমোন ভারসাম্যহীনতা (hormonal imbalance) সৃষ্টি করে। ইউনানি দর্শনে এটি সুয়ে মিযাজ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
৪. মানসিক চাপ ও আবেগের ভারসাম্যহীনতা (Harakat-e-Nafsaniya)
দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা, রাগ, ভয় বা দুঃখ মিযাজকে প্রভাবিত করে। ইবনে সিনার মতে, অতিরিক্ত রাগ মিযাজকে উষ্ণ করে, আর দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা মিযাজকে শুষ্ক করে দেয়। আধুনিক সাইকোনিউরোইমিউনোলজি (psychoneuroimmunology) গবেষণায়ও দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
৫. শারীরিক পরিশ্রম ও বিশ্রামের অসামঞ্জস্য
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম শরীরকে শুষ্ক ও উষ্ণ করে। আবার একদমই পরিশ্রম না করলে কফ (Balgam) বেড়ে মিযাজ শীতল ও আর্দ্র হয়ে যায়। মাত্রামতো ব্যায়াম তাই মিযাজ রক্ষার অন্যতম উপায়।
সুয়ে মিযাজের প্রাকৃতিক সমাধান
ইউনানি চিকিৎসায় সুয়ে মিযাজের চিকিৎসার নীতি হলো ‘ইলাজ বিল জিদ’ — অর্থাৎ বিপরীত গুণ দিয়ে চিকিৎসা। উষ্ণ মিযাজ ঠান্ডা প্রকৃতির খাবার ও ওষুধ দিয়ে, শীতল মিযাজ গরম প্রকৃতির খাবার দিয়ে সমন্বয় করা হয়।
সুয়ে মিযাজ হার-এর প্রাকৃতিক সমাধান (অতিরিক্ত উষ্ণতা)
- আমলকী (Phyllanthus emblica): প্রকৃতিতে শীতল ও আর্দ্র। প্রতিদিন ১–২টি তাজা আমলকী বা ১ চামচ আমলকী রস সুয়ে মিযাজ হার কমাতে কার্যকর।
- ধনেপাতা ও ধনে বীজের শরবত: শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমায়, পিত্ত দোষ শান্ত করে।
- গোলাপ জল (আরকে গুলাব): শীতল প্রকৃতির, হৃদয় ও মস্তিষ্কের উষ্ণতা কমায়।
- তরমুজ, শসা, বেলের শরবত: শরীরের অন্তরের জ্বালাপোড়া দূর করে।
সুয়ে মিযাজ বার্দ-এর প্রাকৃতিক সমাধান (অতিরিক্ত শীতলতা)
- আদা (Zingiber officinale): প্রকৃতিতে উষ্ণ। সকালে এক কাপ আদা-মধু চা হজমশক্তি ও শরীরের তাপ বাড়ায়।
- দারুচিনি (Cinnamomum verum): উষ্ণ ও শুষ্ক প্রকৃতির। রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় ও ঠান্ডাজনিত সমস্যা কমায়।
- কালোজিরা (Nigella sativa): হাদিসে বর্ণিত মহাঔষধ। উষ্ণ গুণসম্পন্ন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
- মেথি বীজ: কফ (Balgam) কমায়, হজম ও মেটাবলিজম উন্নত করে।
সুয়ে মিযাজ ইয়াবিস-এর প্রাকৃতিক সমাধান
- ইসবগুলের ভুসি: অন্ত্রের শুষ্কতা দূর করে, কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়।
- তিলের তেল (Sesame oil): বাহ্যিক ব্যবহার ত্বকের শুষ্কতা দূর করে।
- খেজুর ও কিশমিশ: আর্দ্রতা ও পুষ্টি যোগায়।
- পর্যাপ্ত পানি পান: দিনে ৮–১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখে।
সুয়ে মিযাজ রাতব-এর প্রাকৃতিক সমাধান
- মধু (Honey): শুষ্ক ও উষ্ণ গুণসম্পন্ন। অতিরিক্ত কফ ও আর্দ্রতা কমায়।
- হলুদ (Curcuma longa): প্রদাহ-বিরোধী, কফ শুষ্ক করে।
- নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম: শরীরের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও কফ পোড়ায়।
ইউনানি তাদবিরে মানাভি
ইউনানি চিকিৎসায় শুধু ওষুধ নয়, জীবনযাপনের পদ্ধতিকেও চিকিৎসার অংশ মনে করা হয়। এটিকে বলা হয় ‘তাদবিরে মানাভি’ (Tadbeer-e-Manavi)। নিচের ছয়টি নীতি মিযাজ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে:
১. হাওয়া-পানি (Hawaa wa Maa): বিশুদ্ধ বায়ু ও পানি
প্রতিদিন সকালে ৩০ মিনিট খোলা বাতাসে হাঁটুন। বিশুদ্ধ পানি পান করুন। বদ্ধ ঘরে বসে থাকা মিযাজ নষ্ট করে।
২. মাকুল ও মাশরুব (Maakul wa Mashroob): সঠিক খাদ্য ও পানীয়
নিজের মিযাজ অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করুন। মিযাজ হার হলে ঠান্ডা ও আর্দ্র ফল-সবজি বেশি খান। মিযাজ বার্দ হলে গরম মশলা ও উষ্ণ পানীয় রাখুন।
৩. হারাকাত ও সুকুন (Harakat wa Sukoon): পরিশ্রম ও বিশ্রাম
প্রতিদিন মাত্রামতো ব্যায়াম করুন। অতিরিক্ত পরিশ্রম এড়ান। দুপুরে ১৫–২০ মিনিট বিশ্রাম নিতে পারেন।
৪. নাউম ও ইয়াকাজা (Naum wa Yaqaza): ঘুম ও জাগরণ
রাত ১০টার মধ্যে ঘুমানো এবং ভোরে উঠার অভ্যাস মিযাজ সুস্থ রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে — যা মিযাজ পুনরুদ্ধারে সহায়ক।
৫. হারাকাত-এ-নাফসানিয়া: আবেগ নিয়ন্ত্রণ
নামাজ, যিকির, মেডিটেশন বা হাঁটার মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন। ইবনে সিনা বলেছেন — সুখী মন সুস্থ শরীরের ভিত্তি।
৬. ইস্তিফরাগ ও ইহতিবাস (Istifragh wa Ihtibas): শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশন
শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ নিয়মিত বের হওয়া জরুরি। কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবের সমস্যা বা ঘাম কম হওয়া — এগুলো সুয়ে মিযাজের লক্ষণ। প্রতিদিন যথেষ্ট পানি পান ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার এই সমস্যা দূর করে।
সুয়ে মিযাজ বনাম আধুনিক চিকিৎসা
অনেকে প্রশ্ন করেন — ইউনানির মিযাজ তত্ত্ব কি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত? আসুন তুলনামূলক দৃষ্টিতে বিষয়টি বুঝি:
| বিষয় | ইউনানি দৃষ্টিভঙ্গি | আধুনিক বিজ্ঞান |
| ব্যক্তিভেদে পার্থক্য | মিযাজ পার্থক্য | জেনেটিক ও মেটাবলিক পার্থক্য |
| প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ | সুয়ে মিযাজ হার চিকিৎসা | Anti-inflammatory therapy |
| খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন | মিযাজভিত্তিক পরিহার্য খাবার | Dietary restriction for conditions |
সাধারণ ভুল
- অনেকে মনে করেন যেকোনো ভেষজ ওষুধ সবার জন্য উপকারী — এটি ভুল। আদা যেমন সুয়ে মিযাজ বার্দে উপকারী, তেমনি সুয়ে মিযাজ হার-এ ক্ষতিকর হতে পারে।
- নিজে নিজে মিযাজ নির্ণয় না করে অভিজ্ঞ হেকিমের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- দ্রুত ফলের আশায় একসাথে অনেক ভেষজ মিশিয়ে খাওয়া উচিত নয়।
- গর্ভকালীন ও স্তন্যদানকালীন মায়েরা যেকোনো ভেষজ ব্যবহারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: সুয়ে মিযাজ কি সত্যিই রোগের কারণ হতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, ইউনানি চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে সুয়ে মিযাজ বেশিরভাগ রোগের পেছনের মূল কারণ। যখন শরীরের স্বাভাবিক তাপ-আর্দ্রতার ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং রোগ জন্ম নেয়। আধুনিক বিজ্ঞানের homeostasis ধারণার সাথে এর মিল রয়েছে।
প্রশ্ন ২: কীভাবে বুঝব আমার কোন ধরনের সুয়ে মিযাজ হয়েছে?
উত্তর: লক্ষণের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে বোঝা যায়। শরীরে জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত পিপাসা — হার; হাত-পা ঠান্ডা, হজম দুর্বল — বার্দ; ত্বক শুষ্ক, কোষ্ঠকাঠিন্য — ইয়াবিস; অতিরিক্ত কফ, ফোলাভাব — রাতব। তবে নির্ভুল নির্ণয়ের জন্য অভিজ্ঞ হেকিমের কাছে যাওয়া উচিত।
প্রশ্ন ৩: সুয়ে মিযাজ ঠিক হতে কতদিন লাগে?
উত্তর: এটি নির্ভর করে সুয়ে মিযাজের ধরন ও তীব্রতার উপর। সুয়ে মিযাজ সাদা (মাদ্দাহ ছাড়া) তুলনামূলক দ্রুত ভালো হয় — ২–৪ সপ্তাহ। সুয়ে মিযাজ মাদ্দি দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা দরকার — ৩–৬ মাস বা বেশি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন পদ্ধতি অনুসরণ করলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন ৪: শিশুদের সুয়ে মিযাজ কি প্রাকৃতিক উপায়ে চিকিৎসা করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। শিশুদের মিযাজ সাধারণত উষ্ণ ও আর্দ্র হয়। সুয়ে মিযাজ হলে মায়ের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং মৃদু ভেষজ প্রয়োগে উপকার পাওয়া যায়। ৫ বছরের কম শিশুর ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ হেকিমের পরামর্শ নিন।
প্রশ্ন ৫: সুয়ে মিযাজ এবং ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের কোনো সম্পর্ক আছে কি?
উত্তর: ইউনানি দৃষ্টিতে হ্যাঁ। দীর্ঘস্থায়ী সুয়ে মিযাজ হার থেকে যকৃত ও অগ্ন্যাশয়ের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, যা পরবর্তীতে ডায়াবেটিসের মতো অবস্থা তৈরি করতে পারে। সুয়ে মিযাজ রাতব থেকে রক্ত ও লসিকার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়ে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। তবে এই রোগগুলোর জন্য অবশ্যই আধুনিক চিকিৎসকেরও পরামর্শ নিন।
উপসংহার
সুয়ে মিযাজ কোনো কল্পনাপ্রসূত ধারণা নয় এটি হাজার বছরের পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা অভিজ্ঞতার ফসল। আপনার শরীর আপনাকে প্রতিদিন সংকেত দিচ্ছে। সেই সংকেত বুঝে নিজের মিযাজ অনুযায়ী জীবনযাপন করুন। সঠিক খাবার, নিয়মিত ঘুম, মাত্রামতো ব্যায়াম এবং মানসিক প্রশান্তি — এই চারটি অভ্যাস আপনার মিযাজ ভারসাম্য রক্ষা করবে।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (References)
১. Ibn Sina (Avicenna) — Al-Qanun fi’l-Tibb (Canon of Medicine), Book 1, Fen 1. Original Arabic text, c. 1025 CE. [ইউনানি মিযাজ তত্ত্বের ভিত্তিগ্রন্থ]
২. WHO Traditional Medicine Strategy 2019–2023. World Health Organization, Geneva. https://www.who.int/publications/i/item/9789241515436
৩. Tavares, I.M.C. et al. (2022) — Functional and Nutraceutical Significance of Amla (Phyllanthus emblica L.): A Review. PMC/NCBI. https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC9137578/
৪. Khan, M.A. (2010) — Basic Concepts of Unani Medicine: A Critical Study. MD (Unani) Thesis, Jamia Hamdard, New Delhi. [সুয়ে মিযাজের প্রকারভেদ ও চিকিৎসা নীতি]